• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর মিলন ও সুজন কে বৃদ্ধা মায়ের কুলাঙ্গার আখ্যা..

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ১৯:৩৭ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর মিলন ও সুজন কে বৃদ্ধা মায়ের কুলাঙ্গার আখ্যা..

রিপোর্ট: অমিত অধিকারী

মিলন ভূঁইয়া ও সুজন ভূঁইয়া ওরাও আমার পেটের দুই সন্তান। আমি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি থানায় মামলার এজাহার ও দিয়েছি। কোন মা কখন তার সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। আপনাদেরই ভালো জানা আছে। আমার সন্তান এমন ছিল না। বউদের কথার পাল্লায় পরে আমার গায়ে হাত দেয়। আমাকে মারধর করে। ওরা দুইজন- সন্তান নামের কলঙ্ক, কুলাঙ্গার, আমার সাথে ওরা অনেক অন্যায় করেছে। আমাকে কাঁদিয়েছে। এভাবে কেঁদে ফেলেন বরিশাল নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড হাসপাতাল রোড ল কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা চোখের অপারেশন হওয়া বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম।
তিনি এ প্রতিবেদককে আরও জানান,অনেকদিন ধরে এভাবে আমাকে মারধর সহ অত্যাচার করে আসছে আমার এই দুই ছেলে। বাধ্য হয়ে আমি অপর দুই ছেলে উজ্জ্বল ও সজলের কাছে থাকি। তাদের উপরও মিলন, সুজন দফায় দফায় হামলা চালায়। এমনকি দুই ছেলে উজ্জল ও সজল কে মাদক দিয়া ধরাইয়া এবং চাঁদাবাজি মামলা দেয়ার হুমকিও প্রদান করেন মিলন ও সুজন।আমি ওদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।মিলন আমাকে বাঁচতে দেবে না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করেন। ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মা হাসপাতাল রোড ল কলেজ কম্পাউন্ড মৃত আব্দুল জলিল ভূইয়ার স্ত্রী।
অভিযুক্ত ছেলে মিলন ভূঁইয়া বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, এবং সুজন ভুইয়া ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘ এক বছর ধরে বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমের সাথে তার ওপর দুই ছেলে মিলন ও সুজনদের বিরোত চলে আসছে।মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি আনুমানিক দুই বছর পূর্বে পতিত সরকারের আমলে মেঝো ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মিলন ও সেজ ছেলে সুজন ব্ল্যাকমেল করে মাকে ফাঁদে ফেলে সরলতার সুযোগে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নেয়। ওই সময় বৃদ্ধা মা চোখে সানি সমস্যায় ভুগতে ছিল। মিলন তার বড় ভাই উজ্জ্বলকে বাদ দিয়ে তিন ভাইয়ের নামে সম্পত্তি দলিল করে। বিষয়টি যখন ছোট ভাই সজল জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন- তখন মিলন ও সুজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়।এরপর থেকে মিলন- সুজন ও তাদের পুত্রবধূরা বৃদ্ধা মা ও অপর বড় ভাই উজ্জ্বল ও ছোট ভাই সজলের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শুরু হয় ধ্বংস করার মিশন। বিষয়টি নিয়ে বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম একাধিকবার ছেলে মিলন ও সুজনকে পারিবারিকভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মিলন-সুজন মায়ের কথা অমান্য করে। বারবার মাকে লাঞ্ছিত করেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতার দাপটে রক্ষা পায়নি গর্ভধারিণী মা।
গত ২৩ নভেম্বর মিলন এবং সুজন সহ তাদের সহযোগীরা পূর্ব শত্রুতা কে কেন্দ্র করে উজ্জল ও সজলের উপর অতর্কিত হামলা চালায় । এ সময় মা প্রতিবাদ করতে গেলে বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমের উপর মারধর করে মিলন, সুজন, মিলনের সামুন্দি মুয়াজ্জেম হোসেন সোহেল, মিলনের স্ত্রী সাবেরা চৌধুরী রিমা, সহ তাদের সহযোগীরা। এক পর্যায়ে তারা বৃদ্ধ মায়ের বসত ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।  আহত হয়ে মা আনোয়ারা বেগম, উজ্জ্বল, সজল প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসা শেষে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলার অভিযোগ দেন। মামলার আসামিরা হলো, মিলন ভূঁইয়া, মিলন ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবেরা সুলতানা চৌধুরী, যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান সুজন, মিলনের সামুন্দি মুয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর সোহেল, সামুন্দীর মেয়ে সুমাইয়া ছেলে হৃদয়।
এ বিষয় কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধ মা সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি এখনো  তদন্তদিন রয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....