• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে বিরোধ: গৃহবধূ ও বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৫, ২০২৬, ০০:০৪ পূর্বাহ্ণ
মির্জাগঞ্জে ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে বিরোধ: গৃহবধূ ও বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম

মির্জাগঞ্জে ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে বিরোধ: গৃহবধূ ও বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ তিকাখালী গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মো. ইব্রাহিম ডাকুয়া বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মামলার ২নং সাক্ষী মো. কালাম হাওলাদারের একটি বড় ছাগল এবং তার সাথে থাকা তিনটি বাচ্চা ছাড়া অবস্থায় ছিল। ওই সময় ছাগলগুলো ১নং বিবাদী নাসির হাওলাদারের বাড়ির পাশে রোপণ করা কিছু শিম গাছ খেয়ে ফেলে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টার দিকে বিবাদী নাসির হাওলাদার, পারভীন বেগম এবং শাফায়াত হাওলাদারসহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড, লাঠি, দাও) নিয়ে কালাম হাওলাদারের বাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়।
বাদী ইব্রাহিম ডাকুয়ার স্ত্রী মোসা. খুকু মনি সেখানে পৌঁছালে বিবাদীরা তাকে গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে নাসির হাওলাদার তার হাতে থাকা দাও দিয়ে খুকু মনির মাথায় কোপ দেয়, এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে পারভীন বেগম তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে এবং কানের স্বর্ণের দুল (যার আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় খুকু মনির চিৎকার শুনে তার বাবা মো. কালাম হাওলাদার (৬২) উদ্ধারে এগিয়ে এলে বিবাদী শাফায়াত হাওলাদার তাকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে আহতদের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বাদী ইব্রাহিম ডাকুয়া বলেন, “সামান্য ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে আমার স্ত্রী ও শ্বশুরকে যেভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....