
হিজলায় মেঘনা নদীতে জেলেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: আহত- ৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে জাল ফেলাকে কেন্দ্র করে জেলেদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে উপজেলার ৫নং হিজলা গৌড়বদী ইউনিয়নের কাকুরিয়ার মেঘনা নদীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬ জন জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।এই ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলে কবির মাঝি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে হিজলা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫ ঘটিকায় কবির মাঝি তার সহযোগীদের নিয়ে মেঘনা নদীতে জাল বেয়ে মাছ ধরছিলেন। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদী সেলিম ফরাজীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা, ছেনা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে জেলেদের ট্রলারে অনধিকার প্রবেশ করে বেধড়ক মারপিট শুরু করে।হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন— জাহাঙ্গীর হাওলাদার, রাকিব খাঁ, আমির মাঝি, মনির মাঝি, কালু খাঁ এবং হাছান হাওলাদার।
বিবাদী সেলিম ফরাজী ও হযরত আলী রাঢ়ী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ডান পাশের কপালে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।সুমন রাঢ়ী ও রাকিব ফরাজীর লাঠির আঘাতে আমিন মাঝির মাথায় ও শরীরে জখম হয়। এছাড়া সাগর ফরাজীর আঘাতে কালু খাঁ চোখে গুরুতর আঘাত পান।
এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও রাকিব খাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি অধীনের চিকিৎসাধীন।আশপাশের জেলেরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন— মো: সেলিম ফরাজী (৩৫), মো: হযরত আলী রাঢ়ী (৪৫), মো: সুমন রাঢ়ী (৩৫), মো: রাকিব ফরাজী (৩৭), মো: সাগর ফরাজী (২৭), মো: শামিম হাওলাদার (৩৮), মো: পারভেজ ঢালী (৩২), মো: মতিন মাঝি (৩৭), মো: স্বপন হাওলাদার (৪০), মো: মোস্তফা মোল্লা (৩৫) এবং মো: ইদ্রীস মোল্লা (২৫)। তারা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা।
বাদী কবির মাঝি জানান, আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং পরিবারের সাথে আলোচনার পর এজাহার দাখিল করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
হিজলা থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক বাশার জানান, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রক্তাক্ত এই হামলার ঘটনায় দিশেহারা পরিবারটি এখন ন্যায়বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন তাদের প্রিয় নেতা ও স্থানীয় অভিভাবক, প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান (এমপি)-র দিকে।