বরিশালে জমি নিয়ে বিরোধ: তিন বৃদ্ধ ভাইসহ একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৬, ২০২৬, ১৮:৪৬ অপরাহ্ণ
বরিশালে জমি নিয়ে বিরোধ: তিন বৃদ্ধ ভাইসহ একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় তিন বৃদ্ধ ভাইসহ একই পরিবারের অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মুন্সি বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে,
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুন্সি বাড়ির সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ ফারুক হাওলাদার ও তার সহযোগীরা। হামলায় আহতরা হলেন:আব্দুল হালিম মুন্সী (৬৮), নাসির মুন্সী (৫৮) – (আব্দুল হালিমের ছোট ভাই)।জলিল মুন্সি (৬০) – (চাচাতো ভাই),খলিল মুন্সী (৪৫), সালাউদ্দিন মুন্সি (২৫) এবং জিহাদ মুন্সী (২০)।আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আব্দুল হালিম মুন্সির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যে কোনো সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হতে পারে।
আহত নাসির মুন্সি জানান, মৃত শফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার গংদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। যদিও ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে জমি বণ্টন সম্পন্ন হয় এবং সেই অনুযায়ী তারা ভোগদখল করে আসছিলেন।
সম্প্রতি ফারুকের স্বজন শিহাব রাতের আধারে আব্দুল হালিম মুন্সির জমির কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের মধ্যস্থতায় সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী আব্দুল হালিম মুন্সি বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।
অভিযোগ উঠেছে, জুমার নামাজ শেষে হোসানিয়া মসজিদের সামনে দেশীয় অস্ত্র, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে ওত পেতে ছিল হামলাকারীরা। অভিযুক্তরা হলেন— ফারুক, ফাহিম, জহিরুল ইসলাম আফজাল, শিহাব, শাকিব, রাসেল, লিলি এবং সোহাগী। তারা আব্দুল হালিম মুন্সিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
ঘটনার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন থাকায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে চিকিৎসা শেষে তারা এই নৃসংশ হামলার সুষ্ঠু বিচার ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মামলা দায়ের করবেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।