• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে মুখমণ্ডল থেঁতলে দিল পাষণ্ড স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১০, ২০২৬, ২২:২৮ অপরাহ্ণ
বরিশালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে মুখমণ্ডল থেঁতলে দিল পাষণ্ড স্বামী
বরিশালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে মুখমণ্ডল থেঁতলে দিল পাষণ্ড স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল নগরীর আলেকান্দা কাজীপাড়া এলাকায় যৌতুকের দাবিতে মুক্তা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জহির মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতর মুক্তা আক্তার জানান, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে জহির মিস্ত্রির সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছু দিন সুখে কাটলেও দ্রুতই জহিরের আসল রূপ প্রকাশ পায়। তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করা হতো মুক্তার ওপর।
মঙ্গলবার বিকেলে ফের মোটা অঙ্কের যৌতুক নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জহির হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে মুক্তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে জহির তার স্ত্রীর মাথা দেয়ালের সাথে সজোরে আঘাত করেন এবং মুখে উপর্যুপরি আঘাত করলে তার চেয়াল ফেটে গুরুতর জখম হয়।
মুক্তার আর্তচিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে এলে জহির পালিয়ে যান। প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিক মুক্তার বাবা আইয়ুব আলীকে খবর দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নারী সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চেয়ালে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতিতার মা নাজমিন বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে জহির মারধর করতো। আমরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার নির্যাতন থামেনি। এবার সে আমার মেয়েকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। আমরা এই পাষণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”মুক্তা আক্তার সুস্থ হয়েই স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জহির মিস্ত্রি তার মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, জহির এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....