বরিশালে পিতার দানকৃত জমি নিয়ে বিরোধ: দুই বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ ৫ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে পিতার দানকৃত জমি নিয়ে বিরোধ: দুই বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ ৫ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের জাগুয়া এলাকায় বাবার দানকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই বোন ও তাদের সন্তানদের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। গত ১৫ই মার্চ (রবিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জাগুয়া এলাকার মৃধা বাড়ির মাছের ঘেরে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় গুরুতর আহত অন্তত পাঁচজন বর্তমানে বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জিসান ও জান্নাতের মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হতে পারে।
আহত শাবানা জানান, তাদের বাবা আব্দুস সাত্তার মৃধা তিন মাস আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার দুই মেয়েকে কিছু জমি দানপত্র (হেবা) করে দিয়ে যান। একইভাবে ছেলেদেরও জমির অংশ বুঝিয়ে দেন। বাবার দিয়ে যাওয়া ওই জমিতে দুই বোন মিলে মাছের ঘের তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
তবে এই দানপত্র মেনে নিতে পারছিলেন না তাদের ভাই শহিদুল মৃধা ও শফিকুল ইসলাম প্রিন্স। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘের জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও ভাইয়েরা বাবার সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে বিষয়টি নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পুলিশ বিবাদীদের ডাকলেও তারা থানায় উপস্থিত না হয়ে উল্টো বোনদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
রবিবার রাতে ঘেরে মাছ ধরার জন্য সেচ মেশিন বসানোর সময় শহিদুল ও প্রিন্সের নেতৃত্বে লিপি বেগম, আকাশ, নাহিদসহ ১৫-২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা প্রথমে জিসানকে লক্ষ্য করে কোপাতে শুরু করলে তাকে বাঁচাতে মা, খালা ও অন্য স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদেরও নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল, সেচ পাম্পের তার ও ইলেকট্রিক্যাল মোটর লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।