• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্তিতে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা’ সচিবসহ চার কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
এমপিওভুক্তিতে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা’ সচিবসহ চার কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ
এমপিওভুক্তিতে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা’ সচিবসহ চার কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক,দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালীর দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক সংগঠন ‘মাধবপুর ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে মো. ইয়াকুব আলী তার আইনজীবীর মাধ্যমে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই নোটিশ পাঠান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফলের মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা এবং পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ২০১০ সাল থেকে এমপিওভুক্তির সব যোগ্যতা অর্জন করলেও রহস্যজনক কারণে তালিকা থেকে বঞ্চিত হয়। এর প্রতিকার চেয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট পিটিশন (নং ১২২৯৩/১৫ এবং ১২৯২১/১৬) দায়ের করে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৫ মে মহামান্য হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে আবেদন দুটির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৩০ দিনের মধ্যে এমপিওভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল (নং ২০৯৫/১৯ ও ২০৯৬/১৯) দায়ের করে। তবে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মন্ত্রণালয়ের আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে আইনগত আর কোনো বাধা অবশিষ্ট থাকে না।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, সর্বোচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা গড়িমসি করছেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করছেন। এই প্রেক্ষাপটে লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে:কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) রেহেনা ইয়াছমিন,যুগ্ম সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এবং উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নানকে
নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মাদ্রাসার দাখিল স্তর এবং কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ট্রেড এমপিওভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইন বিশেষজ্ঞ জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় বহাল রাখার পর সরকারের সামনে তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া অন্য কোনো আইনি বিকল্প নেই। এটি অমান্য করা আদালত অবমাননার শামিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়নের প্রহর গুনছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন....