রাজাপুরে জমি বিরোধে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী ভাইকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ২৩, ২০২৬, ১৭:০০ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পৈতৃক জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসী ও তার ব্যবসায়ী বড় ভাইকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পেংড়ি গ্রামের ‘বারই বাড়ি’ নামক স্থানে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই এলাকার মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে প্রবাসী তাজুল ইসলাম (৪৫) এবং তার বড় ভাই ঢাকা নিবাসী ব্যবসায়ী হান্নান হাওলাদার (৫০)। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলায় প্রবাসী তাজুল ইসলামের বাম কান ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে (অঙ্গহানি)। অন্যদিকে, বড় ভাই হান্নান হাওলাদারের মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে হান্নানের মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (Brain Hemorrhage) শুরু হয়েছে। তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় যেকোনো সময় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হতে পারে।
আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হান্নান হাওলাদার ও তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন এবং ছোট ভাই তাজুল ইসলাম প্রবাসে থাকেন। তাদের পৈতৃক রেকর্ডীয় জমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে থাকলেও প্রতিবেশী মৃত সোবান হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার গংদের সাথে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মালিকরা এলাকায় না থাকার সুযোগে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল এবং প্রায়ই তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য দুই ভাই সম্প্রতি সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার সকালে তারা বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলে প্রতিপক্ষ আনোয়ার, তার সহযোগী আব্দুল্লাহ, হাসান ও জাহিদসহ একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাজুল ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে বড় ভাই হান্নান তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এসময় সন্ত্রাসীরা দুজনকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আহতদের পরিবার এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজাপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।