নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের সাতজাল গ্রামে তরমুজ খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে চল (দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ওই গ্রামের একটি তরমুজ ক্ষেত সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম হানিফ (২৫), পার্শ্ববর্তী নলসিটি থানার দবদবিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড কয়ারচর এলাকার মোহন শিকদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে এলাকার কয়েকজন যুবক কই আছর এলাকা থেকে সাঁতার কেটে পার্শ্ববর্তী একটি তরমুজ ক্ষেতের পাশে গিয়ে বসে।
আহত হানিফ ও স্থানীয়রা জানান, যুবকদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না এবং তারা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সে জন্য হানিফ নিজেই তাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর যুবকরা সেখান থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
তবে যুবকরা চলে যাওয়ার পর তরমুজ ক্ষেতের মালিক ও তার সহযোগীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এসময় স্থানীয় যুবক হানিফ এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কেউ তো তরমুজ ধরেনি বা ক্ষেতের ক্ষতি করেনি, তবে কেন অশালীন আচরণ করছেন?” এই প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষেত মালিকের পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র ‘চল’ দিয়ে হানিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় হানিফের ডান হাতের বাহুতে গভীর ও রক্তাক্ত জখম হয়।
হামলার পর অভিযুক্তরাই ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে চরাদি (চরমদ্দি) পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হানিফকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত হানিফের পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ‘তরমুজ চুরির’ নাটক সাজিয়ে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।