চরফ্যাশনে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইকে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
চরফ্যাশনে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইকে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা),,ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই শাহিনকে (৪৫) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। ছোট ভাই কামরুল ইসলাম মনু মিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশে তার শ্যালক ও সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৩০ মার্চ সোমবার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে হাজির হাট বাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। বড় ভাই শাহিন তার ছোট বোনের অনুরোধে নিজেদের পুকুর থেকে মাছ ধরে দুই বোনের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু এই মাছের ভাগ ছোট ভাই কামরুল ইসলাম মনু মিয়াকে না দেওয়ায় তিনি বড় ভাইয়ের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন। এই নিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষে মনু মিয়ার একটি আঙুল ভেঙে গেলে পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসা করা হয়। বড় ভাই হিসেবে মানবিক দিক বিবেচনা করে শাহিন তার ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকাও প্রদান করেন।
পরিবারের দাবি, সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি দুই মাস আগেই মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। তবে ছোট ভাই মনু মিয়া ও তার স্ত্রী শাহিনা সেই আক্রোশ মনে পুষে রাখেন। সোমবার রাতে শাহিন যখন হাজির হাট বাজারের একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন, তখন মনু মিয়ার নির্দেশে তার শ্যালক শামীমসহ লোকমান, রাকিব, সাকিব ও নোমানের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।সন্ত্রাসীরা শাহিনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় গুরুতর জখম করে। শাহিনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শাহিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:আমরা বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাইয়ের সাথে বিবাদ মিটিয়ে নিয়েছিলাম। চিকিৎসার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।