নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদন্ডা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে লাকি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসময় হামলাকারীরা ওই গৃহবধূর বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।গত ৪ এপ্রিল শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম গোদন্ডা গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত লাকি বেগম ওই এলাকার পরিবহন চালক হায়দার হাওলাদারের স্ত্রী।
আহতের স্বামী হায়দার হাওলাদার জানান, প্রতিবেশী ইউনুস মোল্লা ও তার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। তিনি অভিযুক্ত ফারুকের বাবার কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু ওই জমি প্রতিপক্ষরা পুনরায় গোপনে অন্য লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৯টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইউনুস মোল্লা, তার ছেলে মানিক, ভাই ফারুক ও কালাম মোল্লাসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হায়দার হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা হায়দারের স্ত্রী লাকি বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় লাকি বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী হায়দার হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে নলছিটি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার নিশ্চিত করেছে।