সাবেক আ’লীগ চেয়ারম্যানকে ‘শেল্টার’ দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব: বিএনপি নেতা বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১৫:৪৩ অপরাহ্ণ
সাবেক আ’লীগ চেয়ারম্যানকে ‘শেল্টার’ দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব: বিএনপি নেতা বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে পরিচিত সাবেক এক চেয়ারম্যানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) রাতে সুলিজ বাজারে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা লাল মিয়া পেদাকে কুপিয়ে রক্তরঞ্জিত করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি এসব ‘ফ্যাসিস্ট দোসরদের’ শেল্টার দিচ্ছে এবং তাদের হয়ে প্রকৃত বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছে।
এই ‘শেল্টার দাতা’ ও কথিত বিএনপি নেতা মাইন উদ্দিন, লতিফ, ইসমাইল, এরশাদ ও মনির হিরণদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীরা রুখে দাঁড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রথম দফায় হামলার শিকার হন লাল মিয়া পেদার ছেলে সাদ্দাম। মাইন উদ্দিন ও তার বাহিনী সাদ্দামকে পথরোধ করে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন, এ সময় তারা বাজারের তিন চারটি দোকান ভাঙচুরা লুটপাট চালায়।
এর ঠিক পাঁচ দিন পর শনিবার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সুলিজ বাজারে প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয় বাবা লাল মিয়া পেদার ওপর। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
বর্তমানে বাবা ও ছেলে উভয়ই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লাল মিয়ার শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করা হতে পারে।
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন লাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন:আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিনকে এলাকায় পুনর্বাসন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মাইন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। তারা বিএনপির ভেতর প্রবেশ করে এখন প্রকৃত বিএনপি কর্মীদের হত্যার মিশন চালাচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার ছেলেকে আগে মারধর করেছে, এখন আমাকেও শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমি এই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই কথিত বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।