প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৬, ১:৩৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
পাথরঘাটায় পরকীয়া ও যৌতুকের জেরে গৃহবধূকে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তাপালবাড়িয়া গ্রামে ফের যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও শ্বাস রোধ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে জ্ঞান পাড়া গ্রামে ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ ওই এলাকার আমজাদ জমাদ্দারের ছেলে কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিজিবি সদস্য আবুল কালামের স্ত্রী এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ ভেসকি গ্রামের নাসির মালের মেয়ে। বর্তমানে সে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত নাজমিন জানান, ৫ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে নাজমিনের সাথে পাথরঘাটার তাফালবাড়িয়া এলাকার আবুল কালামের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আবুল কালাম পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়। শুরু হয় সংসারে পারিবারিক অশান্তি। চাওয়া হয় যৌতুক। দেয়া হয় যৌতুক বাবদ একটি পালসার মোটরসাইকেল। কিন্তু তাতেও রেহায় পায়নি গৃহবধূ নাজনীন। মোটা অংকের যৌতুক চেয়ে গৃহবধূ নাজনীনকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন শুরু করে দেয় আবুল কালাম। সদস্য হয়েও নিজেকে বিজিবির বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গৃহবধূকে ভয় ভীতি দেখানো হয়। বাস্তব সত্য কথা হলো আমার স্বামী আবুল কালাম সে একজন প্রতারক। বিয়ে করার পরে জানতে পারলাম তার পূর্বেও বিয়ে ছিল।
নাজমিন আরো জানান, আমাকে প্রায় সময় আবুল কালাম নির্যাতন করে।আমাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছরের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে। আমি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার নির্যাতন সহ্য করে রয়েছে। গত এক বছর পূর্বে তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতে আমি মামলা দায়ের করি। গত চার মাস পূর্বে বিজ্ঞ আদালত কে আমার স্বামী মীমাংসার মুচলেকা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে সংসারের জন্য তার বাড়িতে নিয়ে যায়। দুই সপ্তাহের মাথায় আমাকে তুচ্ছ বিষয় এবং পুনরায় যৌতুক চেয়ে ফের নির্যাতন শুরু করে স্বামী।প্রতিবাদ করা হলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমন কি আমার গোটা পরিবারকে হত্যার ও ভয় ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার দিন গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে আমাকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে আমাকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। আমার ডাক চিৎকার স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে আমার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আমিও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
নাজমিনের মা হাওয়া বেগম জানান, আমার স্বামী তার বিয়ে গোপন করে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। শুরু থেকে প্রতারণার ফাঁদ। পরকীয়া ও যৌতুক নিয়ে প্রায় সময় মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। আমার মেয়েকে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে। আমাদেরকেও হত্যা করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। থানায় মামলা হয়নি। আদালতে করেছি কিনা জানিনা।
© Copyright, All Rights Reserved, EkusherChokh24