প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২১, ২০২৬, ৪:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩১, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে জমি বিরোধে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, প্রধান অভিযুক্ত আটক

পটুয়াখালীতে জমি বিরোধে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, প্রধান অভিযুক্ত আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালী সদর উপজেলার কলাতলা এলাকায় পৈতৃক জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের নারী ও প্রতিবন্ধীসহ ছয়জন গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তারা বরিশাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদরের কলাতলা এলাকার মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে জুয়েল বিশ্বাসের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে চলে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ চলে যাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ওত পেতে থাকা দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুয়েল বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। সশস্ত্র এই বাহিনী জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন: জুয়েল বিশ্বাস,সোহেল বিশ্বাস (জুয়েলের মেজো ভাই), হোসনেয়ারা বেগম (মা),মুক্তা বেগম (সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী),শাবনুর (বোন), নাজমা (প্রতিবন্ধী চাচাতো বোন)
আহত জুয়েল বিশ্বাস জানান, "পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই দেলোয়ার হোসেন, তার শাশুড়ি জাহানুর, স্ত্রী আঁখি, শালী নিশি এবং ভায়রা বাবুলসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রথমে আমার ওপর আক্রমণ করে। আমাকে বাঁচাতে মা, ভাই ও বোনেরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত মনে করেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।"
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করেন। বর্তমানে ৫ জন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও মা হোসনেয়ারা বেগমের অবস্থা অতি সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালী থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং বাকি জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে
© Copyright, All Rights Reserved, EkusherChokh24