বাকেরগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে তিন অবুঝ শিশু সহ মাকে হত্যার চেষ্টায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে সৎ শাশুড়ি, শশুর ও তার পরিবারের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার কলসকাঠির বেবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো ওই এলাকার রিপন হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম, রিপনের ৬ বছরের শিশু পুত্র ঈশান,৪ বছরের শিশু কন্যা রোজা মনি ও এক বৎসরের শিশু মাহিরা।
বর্তমানে তারা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহতের স্বজন রিপন জানান, দীর্ঘদিন ধরে রিপন ও তার পরিবারদের সাথে রিপনের বাবা মোঃ ইমান আলী হাওলাদারের দ্বিতীয়পক্ষেরর স্ত্রী সৎ মা সুমা পারভিন ও তার পরিবারদের পারিবারিকভাবে কলহ চলে আসছে। রিপন তার বাবার প্রথম পক্ষের সন্তান।
বাড়ি থেকে আমাদেরকে উৎখাত করতে আমার সৎ মা ও তার সহযোগীরা আমাদের উপর জুলুম অত্যাচার, নিপীড়ন করে আসছে।
আমার মা ১১ বছর পূর্বে বাবার দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যায়।
মায়ের মৃত্যুর আগ থেকেই বাড়িতে বসবাস করার স্থান না পেয়ে আমরা বাকেরগঞ্জের সাহেবগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়া থাকি।
৫-৬ মাস পূর্বে আমি আমার পরিবার নিয়ে বাড়িতে ওঠার পর নতুন করে আমার সৎ মা সহ তাদের সহযোগীরা পুনরায় নির্যাতন শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ খুন জখমের হুমকি দেয়। দিন দিন আমার স্ত্রীসহ ছেলেমেয়েদের উপরে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার দিন আমাদেরকে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টায় আমার স্ত্রীকে বের হয়ে যেতে বলে। আমার স্ত্রী আসমা প্রতিবাদ করতে গেলে এক পর্যায়ে আসমা ও আমার ছয় বছরের শিশু পুত্র ঈশান, চার বছরের শিশুকন্যা রোজা মনি, এক বছরের শিশুকন্যা মাহিরা কে হত্যার চেষ্টা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বাবা ইমান আলী হাওলাদার ও তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সৎ মা সুমা পারভিন, সৎ দেবর কামরুজ্জামান তপু, এবং তপুর বোন অপু সহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজন। এ সময় আসমার সাথে থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় পরিবারের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তিন শিশুকন্যা সহ আমার স্ত্রী কে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল মেডিকেলে রেফার করেন।
এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়রি হয়েছে বলে স্বজনদের সূত্রে জানা যায়। তবে এ ই বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।