• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সদরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন: শশুরের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৬, ১৪:১৬ অপরাহ্ণ
বরিশাল সদরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন: শশুরের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বরিশাল সদরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন: শশুরের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল সদর উপজেলার বন্দর থানাধীন টুংগীবাড়িয়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহনাজ বেগম (২৫) নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন শশুর, শাশুড়ি ও জা-এর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার টুংগীবাড়িয়া এলাকার সিকান্দার খানের বাড়িতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শাহনাজ ওই এলাকার ঢাকা প্রবাসী ফেরদৌস খানের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী শাহনাজ জানান, তার দেড় বছর বয়সী অবুঝ শিশু সন্তানটি প্রায়ই দাদা-দাদী ও চাচার ঘরে যেত। বিষয়টি নিয়ে তার শশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে বিরক্তি প্রকাশ করে আসছিল। গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটি তাদের ঘরে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে ধমক দেয় এবং গায়ে হাত তোলে। একজন মা হিসেবে শাহনাজ এর প্রতিবাদ করলে তার জা (ছোট ভাইয়ের স্ত্রী) নাসিমা বেগমের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে শশুর সিকান্দার খান, শাশুড়ি সাফিয়া বেগম এবং দেবর সজীবের স্ত্রী জা নাসিমা বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে শাহনাজের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তারা শাহনাজের তলপেটে লাথি মারে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠে শাহনাজ জানান, “আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় থাকেন। তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তারা প্রায়ই আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এবার আমার অবুঝ সন্তানের ওপর হাত তোলায় প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে ও আমার পেটের সন্তানকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে।”তিনি আরও জানান, তার স্বামী ঢাকা থেকে ফোনে তাকে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুস্থ হয়েই এই অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বন্দর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....