নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চাবুয়া গ্রামে তরমুজ ক্ষেতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনার জেরে একদল দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে ও লাঠিসোটার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন একই পরিবারের তিন সদস্য। গত ২৮ মার্চ (শনিবার) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চর গৌরবদি নামক এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
ভিকটিম জসিম মিরা জানান, বোন সাজেদা ও ভাগিনা জাকারিয়া তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুপুরে বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করার সময় সাঁতার কেটে নদীর ওপারে চর গৌরবদি এলাকায় যান জাকারিয়া। সেখানে নদীর পাড়েই ছিল একটি তরমুজ ক্ষেত। জাকারিয়া ক্ষেতের পাশে দাঁড়ানো মাত্রই স্থানীয় তরমুজ চাষি আনোয়ার হোসেন কোনো প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তাকে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।ভাগিনাকে বাঁচাতে জসিম ও সাজেদা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। আনোয়ারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি আঘাতে জসিমের বাম হাতের কবজি ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। এ সময় সাজেদাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হলে মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাকারিয়া মোল্লাকে ও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করা হয়।আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জসিম ও সাজেদার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করেন। ভাগিনা জাকারিয়া বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চর গৌরবদি এলাকার এই তরমুজ ক্ষেতগুলোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসছে। একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকাটিকে অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বহিরাগত কেউ সেখানে গেলে তাদের অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই সাধারণ মানুষের ওপর এমন চড়াও হয় তারা।হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা জসিম মিরা ও তার পরিবার এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত আনোয়ারসহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাউফল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।