• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় মোবাইল চুরির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, নগদ অর্থ ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
কলাপাড়ায় মোবাইল চুরির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, নগদ অর্থ ছিনতাই
কলাপাড়ায় মোবাইল চুরির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, নগদ অর্থ ছিনতাই
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে মোবাইল চুরির প্রতিবাদ করায় নাসির উদ্দিন নশা গাজী (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এসময় হামলাকারীরা তার সাথে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধানখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের লোন্দা গ্রাম সংলগ্ন হাফেজ পেদা বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত নাসির ওই এলাকার বেলায়েত গাজীর ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাসির উদ্দিন জানান, গত ৭-৮ দিন আগে তার একটি দামী মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন মোবাইলটি একই এলাকার আহসান আলীর ছেলে তোফাজ্জল মাতাব্বরের কাছে রয়েছে। নাসির তার মোবাইলটি ফেরত চাইলে তোফাজ্জল মোবাইলের ভেতর থেকে সিম কার্ডটি খুলে দিলেও সেটটি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এই ঘটনার জের ধরে তোফাজ্জল ও তার ছেলে তামিমসহ তাদের সহযোগী মহসিন, তৈয়ুম, সাইফুল ও সাঈদের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় নাসির স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সমাজসেবক অ্যাডভোকেট হালিম পেদা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং তার বাড়িতে গিয়ে তাকে অপদস্ত করে।
নাসির উদ্দিন আরও দাবি করেন, “আমার মোবাইল চুরি হয়েছে নাকি হারিয়ে গেছে সেটা বড় কথা নয়, মোবাইলটি তোফাজ্জলের কাছে পাওয়া গেছে। সে সিম দিয়ে সেট রেখে দিয়েছে, যা স্পষ্টত চুরি। শুধু আমার মোবাইল নয়, ইতিপূর্বে এই চক্রটি অ্যাডভোকেট হালিম পেদার পাথর চুরি এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাঙ্গারি রড চুরির ঘটনার সাথেও জড়িত ছিল।
আহত ব্যবসায়ীর পিঠে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কলাপাড়া থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন....