দশমিনায় সতীন ও তার সন্তানদের হামলায় গৃহবধূ রক্তাক্ত, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২৬, ২২:৩৩ অপরাহ্ণ
দশমিনায় সতীন ও তার সন্তানদের হামলায় গৃহবধূ রক্তাক্ত, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার মর্ধনা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রথম পক্ষের স্ত্রী, সন্তান ও জামাতাদের বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত লিমা আক্তার (৩৫) বর্তমানে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ঠাকুর হাট ব্রিজ সংলগ্ন নিজ বাসভবনে হামলার শিকার হন লিমা আক্তার। তিনি ওই এলাকার নির্মাণ ঠিকাদার জাকির মৃধার দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনার সময় প্রথম পক্ষের স্ত্রী শাহিনুর বেগম, ছেলে ইমরান, মেয়ে শারমিন এবং জামাতা শহিদুল ও মোশারেফসহ একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লিমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় লিমার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে যেকোনো সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হতে পারে।
স্বামী জাকির মৃধা জানান,আমি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই লিমাকে আলাদা বাড়িতে রেখেছি। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ এবং বাসস্থানের সব দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালন করছি। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই শাহিনুর ও তার সন্তানরা লিমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার তারা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে। আমি লিমার পাশে আছি এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে সব ধরণের সহযোগিতা করব।
আহত লিমা আক্তার জানান ,এর আগেও শাহিনুর বেগম আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি সুস্থ হয়ে এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করব।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।