ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে দম্পতিকে হত্যার চেষ্টা:মাধবপাশায় প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ২১:২১ অপরাহ্ণ
ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে দম্পতিকে হত্যার চেষ্টা: মাধবপাশায় প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন মাধবপাশা এলাকায় পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ৩রা এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পশ্চিম লাফাদি গ্রামের আকন বাড়িতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন-ওই এলাকার মৃত মোবারক আলী আকনের ছেলে আবুল বাশার আকন (মাসুম আকন) এবং তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মতে, তাদের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাসুম আকন তার পৈত্রিক ভিটায় পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে রাজমিস্ত্রিরা কাজ শুরু করলে এবং নির্মাণ সামগ্রী আনা হলে হঠাৎ করেই তাতে বাধা দেন তার চাচাতো ভাই ওয়াদুদ আকন ও খলিল আকন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ওয়াদুদের দুই ছেলে ওহিদুলজ্জামান ও নাঈম।
হামলাকারীরা প্রথমে রাজমিস্ত্রিদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করে এবং নির্মাণ সামগ্রী পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। মাসুম ও তার স্ত্রী এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওয়াদুদ ও খলিলের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুম ও কুলসুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রাজমিস্ত্রিরা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও ধাওয়া করে এলাকা ছাড়া করে। পরিকল্পিত এই হামলায় দম্পতিকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে হামলার পর থেকে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আহতদের স্বজনরা। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আহত মাসুম আকন হাসপাতাল থেকে জানান, “পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঘর তুলতে গিয়ে আমাদের রক্ত ঝরাতে হলো। আমরা এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান(ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।