ভান্ডারিয়া মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
ভাণ্ডারিয়ায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৪নং একরি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড পশ্চিম পসারীবুনিয়া গ্রামের ঢালী বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত শরিফুল ইসলাম ওই এলাকার ফারুক আকনের ছেলে এবং ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও আহত শরিফুলের স্বজনরা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে আসাদুল বেপারীর ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি মিরাজ বেপারী ও তার স্ত্রী মেরি বেগম মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় যুবদল নেতা শরিফুল ইসলামের কাছে প্রতিকার চান। জনদাবির প্রেক্ষিতে শরিফুল ওই দম্পতিকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক কারবারি মিরাজ ও মেরি বেগম শরিফুলসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিপূর্বেও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শরিফুল জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি মাদারশিপ বাজার থেকে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। পথে ঢালী বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মিরাজ, তার স্ত্রী মেরি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি দুলাল বেপারী ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মাদক বিক্রির মতো সামাজিক ব্যাধির প্রতিবাদ করায় আমাদের সাধারণ সম্পাদককে নৃশংসভাবে কোপানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। সুস্থ হওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে শরিফুলের পরিবারের সদস্যরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা আক্ষেপ করে বলেন, এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রি হবে আর তার প্রতিবাদ করলে কি এভাবেই প্রাণ দিতে হবে?
এদিকে ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে হামলাকারী মিরাজ আহত দেখিয়ে উল্টো থানায় মামলা দিয়ে জেল খাটার হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।