• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে জমি দখল নিয়ে বিধবা বৃদ্ধার ওপর নৃশংস হামলা: ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
মির্জাগঞ্জে জমি দখল নিয়ে বিধবা বৃদ্ধার ওপর নৃশংস হামলা: ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
মির্জাগঞ্জে জমি দখল নিয়ে বিধবা বৃদ্ধার ওপর নৃশংস হামলা: ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বিধবা বৃদ্ধা ও তাঁর স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। গত ১২ এপ্রিল (রবিবার) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছৈলাবুনিয়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজনকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত মোতাহার মৃধার স্ত্রী হালিমা বেগমের (৬০) সাথে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সিদ্দিক, আলমগীর ও কাওসারসহ একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হালিমা বেগমের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বৃদ্ধা হালিমা বেগম ও তাঁর বোনের ছেলে বিল্লাল হোসেনকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এর পূর্বে ১১ই এপ্রিল শনিবার আগের দিন উভয় পক্ষের সালিশদার এবং অন্যান্য দলিল ধার এই জমি নিয়ে কথা বলতে গেলে সালিশদার আবুল হোসেন হাওলাদারকেও অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায় জাহাঙ্গীর, ইউনুস গং দের সহযোগীরা।
হালিমা বেগম ও বিল্লাল হোসেন: আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।আবুল হোসেন হাওলাদার: পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা হালিমা বেগমের বসতঘর ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় তারা। এর আগে ১১ এপ্রিল (শনিবার) সালিশদার আবুল হোসেনকে মারধর করে প্রতিপক্ষরা এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা হালিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:ওরা আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছে। আমার জমি জবরদখল করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করছিল। এখন আমাদের ওপর হামলা করে উল্টো থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার জন্য নিজেদের দোকান নিজেরা ভেঙে নাটক সাজাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে এলাকা ত্যাগের হুমকি দিচ্ছে এবং উল্টো ইনজুরি সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মামলা দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....