• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিপুরে গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধ: নারী ও কিশোরসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, এলাকায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
মহিপুরে গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধ: নারী ও কিশোরসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, এলাকায় আতঙ্ক
মহিপুরে গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধ: নারী ও কিশোরসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, এলাকায় আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক ,পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গরুর বাছুর নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় একই পরিবারের তিন নারীসহ চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তারা বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এটি কেবল তাৎক্ষণিক কোনো ঝগড়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও শত্রুতার এক নৃশংস বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ৯ নং ধুলাসার ইউনিয়নের চরচাপলি গ্রামে মৃত আলমাস হাওলাদারের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।ঘটনার শুরু হয় সপ্তাহখানেক আগে, যখন প্রতিবেশী তাজুলের ফুফাতো ভাই সুলতানের কুকুর আলমাস হাওলাদারের একটি গরুর বাছুরকে কামড়ে জখম করে। এ নিয়ে স্থানীয় সালিশে তাজুল ইসলামের ফুফাতো ভাই সুলতান চিকিৎসার জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা দিলেও মহিপুর থানা পুলিশের মধ্যস্থতার চেষ্টা সফল হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় ওই বাছুরটি প্রতিবেশী বাবুলের বাড়িতে গেলে তিনি পরিকল্পিতভাবে রেখা বেগমকে (৩০) ডেকে আনেন। অভিযোগ উঠেছে, রেখা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা তাজুল, বাবুল, আবুল, মিলন ও আকাব্বর , মিলনের ছেলে মাসুম, সুলতানের স্ত্রী সাবিনা, তাজুলের ছেলে মাসুদ বাবুলের ছেলে সুমন সহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।রেখা বেগমের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন মা সফুরা বেগম (৬০), বোন রানী বেগম (৩৫) এবং কিশোর ছেলে রিফাত (১৬)। ঘাতক চক্রটি তখন কাউকেই রেহাই দেয়নি। ধারালো অস্ত্রের কোপে এবং লাঠির আঘাতে চারজনকেই রক্তাক্ত জখম করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার বীভৎসতা ছিল চরম পর্যায়ের। অভিযোগ আছে, হামলার সময় নারীদের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিমে রেফার করেন।
হামলার শিকার পরিবারের সদস্য মোর্শেদা বেগম এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত মিলন দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ওই পরিবারটি মোর্শেদার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। মোর্শেদার স্বামী রনি জানান:
হামলার ৪-৫ দিন আগে থেকেই আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এলাকায় মিথ্যা গণস্বাক্ষর সংগ্রহের নাটক সাজিয়েছিল তারা। গ্রামবাসী যখন প্রকৃত সত্য বুঝতে পারে, তখন অনেকেই স্বাক্ষর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে।নৃশংস এই হামলার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালালেও তাদের স্বজন ও সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে এলাকাছাড়া করার এবং বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোর্শেদা প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ওরা লম্পট ও চরিত্রহীন। আমরা জীবনের নিরাপত্তায় ভুগছি। আমার মা-বোনকে যারা হত্যার চেষ্টা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।
বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....