• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে গৃহবধূর সঙ্গে কলহের জেরে দিনমজুরের রহস্যজনক মৃত্যু,নিহতের পরিবারের দাবি এটি সুকৌশলী হত্যাকাণ্ড; 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ২২:১৩ অপরাহ্ণ
বরিশালে গৃহবধূর সঙ্গে কলহের জেরে দিনমজুরের রহস্যজনক মৃত্যু,নিহতের পরিবারের দাবি এটি সুকৌশলী হত্যাকাণ্ড; 
বরিশালে গৃহবধূর সঙ্গে কলহের জেরে দিনমজুরের রহস্যজনক মৃত্যু,নিহতের পরিবারের দাবি এটি সুকৌশলী হত্যাকাণ্ড; 
খান আব্বাস: বরিশাল নগরীর রূপাতলী ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালা দিঘিরপার এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে সোহেল খান (৩৫) নামে এক দিনমজুরের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শ্বশুরবাড়ির নিকটস্থ ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং সুকৌশলে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।নিহত সোহেল খান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার ৬ নম্বর মঠবাড়িয়া ইউনিয়নের ধহর শংকর গ্রামের ইদ্রিস খানের ছেলে। প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে খুশি বেগমের সঙ্গে সোহেলের দ্বিতীয় বিবাহ হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সোহেল বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে শ্বশুরবাড়ির পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
নিহতের বাবা ইদ্রিস খান অভিযোগ করে বলেন,সোহেল দিনমজুরি করে সংসার চালাত। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত। এর আগেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সোহেলের ওপর কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার রাতেও আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা হয়েছে। আমার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নিহতের স্ত্রী খুশি বেগম জানান, ঘটনার রাতে টাকা-পয়সা নিয়ে সোহেলের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, সোহেল আমার বাবার বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেছিল। এ নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভাঙলে তাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসতাম।
সোহেলের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় বাসায় স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিল না, যা সন্দেহ আরও ঘনীভূত করছে।
শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।নিহতের বাবা জানান, সঠিক বিচার পেতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন জানান, আমরা আত্মহত্যার খবরটি শুনেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....