• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ভাইকে গ্রেপ্তার করিয়ে ছোট ভাইকে কুপিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
পটুয়াখালীতে ভাইকে গ্রেপ্তার করিয়ে ছোট ভাইকে কুপিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করার অভিযোগ
পটুয়াখালীতে ভাইকে গ্রেপ্তার করিয়ে ছোট ভাইকে কুপিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কেশবপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক ভাইকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় অপর ছোট ভাই পলাশকে (৩০) পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।গত ২৫ এপ্রিল (শনিবার) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কেশবপুর স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পলাশ ওই এলাকার আবুল তালুকদারের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবুল তালুকদারের সাথে তার ভাই সালাম তালুকদারের বিরোধ চলছিল। গত ২৫ এপ্রিল সকালে একটি মামলার ওয়ারেন্ট দেখিয়ে পুলিশ পলাশের মেজ ভাই রিয়াজ তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে। রিয়াজকে নিয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী পলাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়, যার ফলে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়।স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করা হতে পারে।
আহত পলাশের বোন জেসমিন বেগম অভিযোগ করেন, তার চাচা সালাম তালুকদার ও চাচাতো ভাই হানিফ তালুকদার তাদের পৈতৃক জমি জবরদখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, আমার সেজ ভাই রিয়াজের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ওয়ারেন্ট করিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার এক মিনিটের মাথায় হানিফ ও তার সহযোগী একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এর আগেও আমার ২১ বছরের ছেলেকে তারা একইভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রিয়াজকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওসি আরও জানান, উভয় পক্ষের লোকজনই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন....