নগরীর চকবাজারে মুসকান ফ্যাশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল! বিতর্কিত কান্তা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ২০:৩৫ অপরাহ্ণ
নগরীর চকবাজারে মুসকান ফ্যাশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল! বিতর্কিত কান্তা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বরিশাল নগরীর চকবাজারের ‘জাহানারা মার্কেটে’ একটি তৈরি পোশাকের দোকান দখল, সাইনবোর্ড পরিবর্তন এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৪ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় রাবেয়া আফরিন কান্থাকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-কান্থার স্বামী আরিফ, বাবা কামাল, ভাই শাফায়েত।
ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, চকবাজারের জাহানারা মার্কেটে ‘মুসকান ফ্যাশন’ নামক একটি লেডিস শপের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগমের অভিযোগ, তার ভাইজি রাবেয়া আফরিন কান্থা ও তার পরিবার কৌশলে দোকানের তালা কেটে ভেতরে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে। শুধু তাই নয়, দোকানের পূর্বের সাইনবোর্ড সরিয়ে রাতারাতি ‘সুন্দরী বিডি’ নামক নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় তারা।
দোকান দখলের খবর পেয়ে শাহনাজ বেগম, তার ভাতিজা রায়হান রানা ও রানার বন্ধু রাব্বি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতিপক্ষ কান্থা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে শাহনাজের বাম হাতের হাড় ভেঙে যায় এবং অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।বর্তমানে আহতরা শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি ও অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে শাহনাজের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
আহত শাহনাজ বেগম জানান, তিনি তার ভাই সালাম এবং ভাইজি কান্থা মিলে তিন অংশীদারের ভিত্তিতে দোকানটি ভাড়া নেন। ২৬ লাখ টাকা ডিড মূল্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু অংশীদার কান্থা বাকিদের না জানিয়ে গোপনে দোকান মালিকের সাথে নিজের নামে একক চুক্তি (ডিড) করে পুরো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দখল করার চেষ্টা করেন। শাহনাজের দাবি, দোকানের ডেকোরেশন, এসি ও মালামাল বাবদ তাদের বিপুল বিনিয়োগ থাকলেও কান্থা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সব আত্মসাৎ করতে চাইছেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন জানান, দোকানের পার্টনারশিপ এবং মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাহনাজ বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।