
শেবাচিমে ইয়াবাসহ আটক হাসপাতালের কর্মচারী ও দালাল! পরিচালকের শোকোজ
- খান আব্বাস :বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) নতুন ভবনের ৭ম তলা থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাসপাতালের এক আউটসোর্সিং কর্মী ও এক বহিরাগত দালালকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।আটককৃতরা হলেন— হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী মোঃ হাসান মোল্লা (২৪)। তিনি গৌরনদী উপজেলার বাকাই মাগুরা গ্রামের মোঃ জলিল মোল্লা ও ময়না বেগমের ছেলে। অপরজন হলেন মোঃ হৃদয় (২৫)। তিনি হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের এক নারী কর্মচারীর ছেলে ও বহিরাগত দালাল চক্রের সদস্য। হৃদয় নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকার জিয়া নগর খ্রিস্টান পাড়ায় বাস করেন।
হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়,গত পহেলা নভেম্বর রবিবার বিকেলে খবর আসে যে শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবনের ৭ম তলার একটি তালাবদ্ধ সিঁড়ির সানসেটে বসে দুজন ব্যক্তি মাদক সেবন করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২-টি ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই মাদকসেবীকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।
এদিকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালককে জানানো হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক নির্দেশনার পর জব্দকৃত আলামতসহ আটক আসামিদের এএসআই (নিঃ) রুবেলের মাধ্যমে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়।স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আটক হাসান মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিরাপদে ইয়াবা সেবন ও কেনাবেচার সাথে যুক্ত ছিলেন। এই চক্রের সাথে হাসপাতালের ভেতরে আর কারা জড়িত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল জানান, আটককৃত হাসান হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ছিলেন। ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ থানায় পাঠিয়েছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক স্যার অভিযুক্ত ওই কর্মচারীকে শোকজ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।