বাকেরগঞ্জে যৌতুক ও পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে চুলার আগুনে পুড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত November 2, 2026, 17:40 PM
বাকেরগঞ্জে যৌতুক ও পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে চুলার আগুনে পুড়ানোর অভিযোগ

বাকেরগঞ্জে যৌতুক ও পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে চুলার আগুনে পুড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে পরকীয়ার প্রতিবাদ এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী অনন্যাকে দুই দফায় নির্মমভাবে নির্যাতন ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত ৯ অক্টোবর স্বামীর বাড়িতে রান্না করার সময় জ্বলন্ত চুলায় ধাক্কা দিয়ে তার ডান হাত পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার গাজীপুর এলাকায়ও তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

বর্তমানে দগ্ধ ও নির্যাতিতা গৃহবধূ অনন্যা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত স্বামী শফিকুল ইসলাম বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া বাবলাতলা ঘরামি বাড়ির আফেল উদ্দিন ঘরামির ছেলে। আর নির্যাতিতা অনন্যা আক্তার পার্শ্ববর্তী ৭ নম্বর ওয়ার্ড নন্দপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ খবির হাওলাদারের মেয়ে।

 

আহত অনন্যা জানান, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে শফিকুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শফিকুল ও তার পরিবার বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন।

অনন্যা আরও অভিযোগ করেন, স্বামী শফিকুল বিভিন্ন তরুণীর সাথে অনৈতিক ও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি অনন্যা হাতেনাতে ধরে ফেললে সংসারে তীব্র অশান্তি শুরু হয় এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এ বিষয়ে উভয় পরিবারের পক্ষক থেকে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

 

তিনি আরও জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার গাজীপুরে তাদের বসবাসরত বাসায় আটকে তাকে বেদম মারধর করা হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান শফিকুল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর নির্দেশে শফিকের ভাগিনা মাশরাফি ইসলাম রান্নাঘরের কাজে থাকা অনন্যাকে পিছন থেকে জ্বলন্ত চুলার আগুনের ভেতর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তার ডান হাত কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

সে বলেন, আমি আমার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যারা আমার জীবন নিয়ে এমন নৃশংসতা চালিয়েছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....