টিবি হাসপাতালের জমি দখলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিরসনে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত August 12, 2026, 18:46 PM
টিবি হাসপাতালের জমি দখলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিরসনে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন

টিবি হাসপাতালের জমি দখলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিরসনে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন

মেহেদী হাসান : বরিশাল আমানতগঞ্জ মৌজায় জমি ক্রয় ও বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমি ক্রেতাদের দাবি, সরকারি যক্ষ্মা ব্যাধি (টিবি) হাসপাতালের জমি দখলের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কোনো আইন-কানুন না মেনে জমি দখল করা হয়নি; বরং বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করেই নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জমির ক্রেতা গগন গলি, ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ফোরকান মিয়া। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা মরহুম মজিদ আকনের মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে মোঃ হেলাল আকন ও মোসাম্মৎ বিউটি বেগম বরিশাল আমানতগঞ্জ মৌজার জেএল নং ৪৮, এসএ খতিয়ান নং ৮১২, দাগ নং ১০৫৯ এবং বিএস খতিয়ান ৫৭৪৩, দাগ নং ১৫৪৪ ও ১৫৫২ এর মালিক হন।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ভাই-বোন মিলে ৬৯ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য চারজনের সাথে আন-রেজিস্ট্রি বায়না চুক্তি (নোটারি) সম্পন্ন করেন। ক্রেতা পক্ষ জমির সকল বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে আমানতগঞ্জ ৪৮ নং মৌজার ৮১২ এসএ খতিয়ানের ১০৫৯ নং দাগের প্রায় দেড় একর জমির রেকর্ডী ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেন।

আবদুল গণি আকনের পুত্র মোঃ মজিদ আকন দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং ৪৯/১৯৫৭) দায়ের করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত ২৩ নভেম্বর-১৯৫৭ ইং তারিখের রায়ে তাঁর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে মিস মোকদ্দমায় (২৫/০৫/১৯৮০) ১ নং খতিয়ানের পরিবর্তে ৮১২ নং খতিয়ানে মজিদ আকনের নামে ১৫০ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে চূড়ান্তভাবে প্রিন্ট ও গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরকান মিয়া বলেন, বায়না চুক্তি হওয়ার পর জমি উন্নয়নের লক্ষ্যে বালু ভরাট শুরু করা হলে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আমানতগঞ্জ যক্ষ্মা ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুমা আক্তার কাউনিয়া থানায় একটি লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু জমি ক্রেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা হাসপাতালের কোনো জমিতে বালু ভরাট করেননি।

জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ নিরসনে ইতোমধ্যে মোকাম বরিশাল সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বিরোধীয় নিকেশের ওপর স্থীতিাবস্থা চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর: ৩৩৩/২০২৬)। বিজ্ঞ আদালত গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উক্ত মামলায় আদেশ প্রদান করেছেন, ফলে বর্তমানে জমিতে আইনগতভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,আমরা কোনো বেআইনি কাজ করিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ করে দেখতে পারেন। আপনারা সমাজের দর্পণ, তাই সত্য যাচাই না করে কোনো বিভ্রান্তিকর বা বানোয়াট সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পরিবেশন না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরকান মিয়া উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....