শেবাচিমে ডা. রমজানের সিন্ডিকেট: পছন্দের ডায়াগনস্টিক ছাড়া মিলছে না চিকিৎসাসেবা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত October 28, 2026, 21:18 PM
শেবাচিমে ডা. রমজানের সিন্ডিকেট: পছন্দের ডায়াগনস্টিক ছাড়া মিলছে না চিকিৎসাসেবা!

শেবাচিমে ডা. রমজানের সিন্ডিকেট: পছন্দের ডায়াগনস্টিক ছাড়া মিলছে না চিকিৎসাসেবা!

রাসেল খলিফা:-  বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে পছন্দের ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর কারণে এক রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক সংবাদকর্মীর সঙ্গেও ওই চিকিৎসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর মতো নানা অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগমের স্বামী সরুজ মল্লিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর স্ত্রী মাথাব্যথায় ভুগছেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে দেখে কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, এ সময় চিকিৎসক নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে পরীক্ষাগুলো করানোর জন্য এক নারীকে দেখিয়ে দেন। তবে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে তিনি সেই ক্লিনিকের পরিবর্তে ‘সায়েন্স ল্যাব’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন।পরে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তাঁর বাতলে দেওয়া ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলো না—তা নিয়ে ক্ষিপ্ত হন ডা. রমজান আলী। 
নাজমা বেগমের অভিযোগ, চিকিৎসক তাঁকে বকাঝকা করেন এবং রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। এ সময় চিকিৎসকের এহেন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনার বিবরণ জানতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এক সংবাদকর্মী। এ সময় হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কক্ষে প্রবেশের কারণ জানতে চেয়ে ডা. রমজান আলী হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে চিকিৎসক রমজান আলী ক্ষমা চান এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজমা বেগম আরও জানান, এর আগেও তিনি এই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সেবারও তাঁর কথামতো নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, ওই চিকিৎসকের কক্ষের সামনে কিছু নারী দালাল চক্রের মতো অবস্থান করেন। রোগী দেখার পর তাঁদের মাধ্যমেই মূলত নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা না করালেই শুরু হয় দুর্ব্যবহার।
হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একাধিক সংবাদকর্মী জানান, শেবাচিম হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমান পরিচালক নিয়মিত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেও সব রোগী ভয়ে অভিযোগ করতে আসেন না। এই সুযোগে একটি সিন্ডিকেট সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে আসছে।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং অনেকটাই সফল হয়েছি। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর  অবস্থান বজায় থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....