শেবাচিমে পছন্দের ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা না করায় রোগীর কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত October 18, 2026, 08:12 AM
শেবাচিমে পছন্দের ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা না করায় রোগীর কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

শেবাচিমে পছন্দের ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা না করায় রোগীর কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

খান আব্বাস : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক নারী রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করানোর জেরে মেডিসিন বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. রমজান আলী এ কাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

আজ ১৭ অক্টোবর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার মিম নামের ওই নারী বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন।

 

ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জ্বরসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে বহির্বিভাগে আসেন মিম। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রমজান আলী তাঁকে কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। মিম সুবিধাজনক স্থান ও কিছুটা ছাড় (ডিসকাউন্ট) পাওয়ায় হাসপাতালের সামনের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষাগুলো করান। দুপুরে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডা. রমজান আলীর কক্ষে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক থেকে কেন পরীক্ষা করানো হয়নি—তা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ‘রিপোর্ট মানসম্মত হয়নি’ বলে প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেন ওই চিকিৎসক।

ভুক্তভোগী মিম বলেন, অনেক দূর থেকে কষ্ট করে আমরা চিকিৎসা নিতে এসেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আমাদের বেশ টাকা খরচ হয়েছে। একজন চিকিৎসক কীভাবে রোগী ও তাঁর স্বজনদের সামনে টাকা দিয়ে করানো রিপোর্ট ও চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলতে পারেন? চিকিৎসকের কাছে আমরা ভালো ব্যবহার আশা করি, কিন্তু এমন আক্রমণাত্মক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বহুদিনের। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন একই হাসপাতালে বহাল রয়েছেন। তাঁর নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে রিপোর্ট আনলে তা বাতিল করা বা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়।

তবে অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলী। তিনি বলেন, রোগীর আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি তাঁকে বাইরের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাইনি, 

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নাজমুল আহসান জানান, এই ধরনের অভিযোগ আমরা পাইনি, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সংবাদটি শেয়ার করুন....