
বরিশালে টিবি হাসপাতালের জমি নিয়ে ধোঁয়াশা: ‘এলাকাবাসী’র ব্যানারে সিপিবি নেতাদের মানববন্ধনে বিভ্রান্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর টিবি হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বিরোধপূর্ণ জমি কেন্দ্র করে ‘স্থানীয় এলাকাবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন করা হলেও তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আজ ২১ আগস্ট সকালে বরিশাল টিবি হাসপাতালের সামনে ৮-১০ জন লোক নিয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, মূল তথ্য গোপন রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে ব্যবহৃত ব্যানারে “ভাটিখানা, আমানতগঞ্জ ও কাউনিয়াবাসী” উল্লেখ থাকলেও সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদানকারী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র স্থানীয় নেতা-কর্মী। এতে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা সিপিবির সভাপতি এ কে আজাদ সহ পার্টির কয়েকজন নেতা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, জমির মূল ঘটনা বা খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয় তারা জানেন না। অন্য এলাকা থেকে আসা এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমাদেরকে পার্টি থেকে ডেকে আনা হয়েছে, তাই এসেছি। ভেতরের আসল বিষয় আমাদের জানা নেই।
অন্যদিকে, জমি দখল ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সিপিবির সভাপতি এ কে আজাদ জমির সঠিক পরিমাণ, সাবেক ও বর্তমান খতিয়ান কিংবা দাগ নম্বর সংক্রান্ত তথ্যের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
সরজমিনে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে দুইটি স্পষ্ট সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। একটি সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে— বায়না সূত্রে এই জমির মালিক মোঃ রাকিবুল ইসলাম গং, জেলা: বরিশাল, উপজেলা: বরিশাল সদর, জে এল নং ৪৮, মৌজা: আমানতগঞ্জ, এস এ দাগ- ১০৫৯, বিআরএস খতিয়ান- ৫৭৮৫, বিআরএস দাগ ৯৬৪৪ (ভিটা) ও ৯৬৫২ (বাড়ী), জমির পরিমাণ: ৬৯ শতাংশ।
অপর সাইনবোর্ডে দেখা যায়, মোকাং বরিশাল সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৩, ৩৩/২০২৬ বিচারাধীন। মামলায় বাদী পক্ষে মোঃ হেলাল আকন, মোসাঃ বিউটি বেগম, পিং মোঃ মজিদ আকন এবং বিবাদী পক্ষে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি দপ্তর যুক্ত রয়েছে।
আইনানুযায়ী, ১ নম্বর খাস খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি সরকার একতরফা দাবি করতে পারে না। একই সাথে জমিটির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, যে জমির বিআরএস রেকর্ড ও আদালতের মামলার বিবরণ স্পষ্ট সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, সেখানে কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া কার স্বার্থে এই মানববন্ধন? বক্তাদের বক্তব্যেই স্পষ্ট যে জমিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই।
আদালতে বিচারাধীন বিষয়কে আড়াল করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের এই চেষ্টায় চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।