শেবাচিমে লিফটের মরণফাঁদ: ৩টি নষ্ট, ১টি দিয়ে চলছে রোগীদের জীবন-মৃত্যুর টানাটানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত October 4, 2026, 08:24 AM
শেবাচিমে লিফটের মরণফাঁদ: ৩টি নষ্ট, ১টি দিয়ে চলছে রোগীদের জীবন-মৃত্যুর টানাটানি

শেবাচিমে লিফটের মরণফাঁদ: ৩টি নষ্ট, ১টি দিয়ে চলছে রোগীদের জীবন-মৃত্যুর টানাটানি

খান আব্বাস, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগ (ওপিডি) নতুন ভবনের চারটির মধ্যে তিনটি লিফটই বিকল হয়ে থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একটি মাত্র সচল লিফটের সামনে ট্রলি ও হুইলচেয়ার নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও বহির্বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে উঠতে পারছেন না ভর্তি হওয়া রোগীরা। লিফট অপারেটরদের অব্যবস্থাপনা এবং শৃঙ্খলার অভাবে জরুরি রোগীদের নিচে ফেলে রেখে সুস্থ স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে আগে উঠে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  

আজ ৩ অক্টোবর শনিবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের নিচতলায় লিফটের সামনে শত শত রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সারি। একসাথে ৩ থেকে ৪টি ট্রলি চলে এলে লিফট ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিফট না পেয়ে শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের দীর্ঘক্ষণ নিচতলায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।  

লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভুক্তভোগী স্বজন আব্দুর রহিম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের রোগী নিয়ে আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু পরের লোক এসে ধাক্কাধাক্কি করে আগে লিফটে উঠে যাচ্ছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আগেই রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

লিফটের দায়িত্বে থাকা অপারেটর আমানউল্লাহ জানান, অতিরিক্ত ভিড় ও সচেতনতার অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের চেয়ে অনেক সময় সুস্থ স্বজনরা আগে উঠে পড়েন, যা সামাল দিতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।  

এদিকে মায়ের চিকিৎসার জন্য আসা সফিক নামে এক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটের জন্য একটি হুইলচেয়ারও সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তার ওপর চারটি লিফটের তিনটিই নষ্ট। এক ঘণ্টার বেশি সময় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে রোগীরা কীভাবে চিকিৎসা পাবে? এভাবে সময়মতো উপরে উঠতে না পেরে রোগী মারা যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। 

এমন বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনায় চরম ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনরা। রোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিকল লিফটগুলো মেরামত এবং সুশৃঙ্খল লিফট ব্যবস্থাপনা চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।  এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নাজমুল আহসান জানান, লিফটের ভোগান্তি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....