কুয়াকাটায় মানববন্ধনের জেরে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যা চেষ্টা,
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটায় মানববন্ধনের জেরে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যাচেষ্টা,
অমিত অধিকারী :পটুয়াখালীর মহিপুর থানার কুয়াকাটা এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় পৌর শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম মৃধাকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ই মার্চ (বুধবার) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ‘বৈশাখী হোটেল’-এর ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত জসিম মৃধা কুয়াকাটা এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ মৃধার ছেলে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত ওই সংবাদকর্মী কে.এম. বাচ্চুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এসব অপকর্মের প্রতিবাদে গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে কুয়াকাটায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে তথাকথিত ‘হলুদ সাংবাদিক’ বাচ্চুর বিরুদ্ধে একটি বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই মানববন্ধনে জসিম মৃধার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাচ্চু ও নেছার বাহিনী।
আহত জসিম মৃধা হাসপাতাল থেকে জানান, সন্ধ্যায় তিনি বৈশাখী হোটেলে অবস্থানকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নেছার উদ্দিন, কে.এম. বাচ্চু, সাবেক প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মিরন মামলার প্রধান আসামি ইলিয়াসসহ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জসিমের মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা তুলাতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জসিমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। যদি দ্রুত স্বাস্থ্যের উন্নতি না হয়, তবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করা হতে পারে।
অপরদিকে অভিযুক্ত কেএম বাচ্চু মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাব্বত আলী খান জানান, কুয়াকাটা এলাকায় সংঘটিত এক মারামারির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করিনি।
জসিম মৃধার ওপর এই হামলার ঘটনায় কুয়াকাটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।