আইনটিকে যাতে কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা, সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশ ও গুরুত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজনের দেওয়া সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতেই খসড়াটি সংশোধনের এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক নীতি নির্ধারণী সভায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনে মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সাইবার স্পেস, গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে কোনোভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।
খসড়া সংস্কার প্রক্রিয়ায় মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা এবং অনলাইনে কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার যৌক্তিক কারণ জানানোর বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।
বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা হয়। জাতিসংঘ, বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সভা শেষে জানানো হয়, সংশোধিত খসড়াটি বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পুনরায় পরিমার্জন করা হবে এবং খুব শিগগিরই জনসাধারণের মতামতের জন্য অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে আইনটিকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মত দেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের অধিকার, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রেখেই এবার চূড়ান্ত আইনটি প্রণয়ন করতে হবে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে সভায় একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।