• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, প্রবাস থেকে ফিরে বিচারের দাবিতে মায়ের আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২৬, ১৩:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজাপুরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, প্রবাস থেকে ফিরে বিচারের দাবিতে মায়ের আর্তনাদ
রাজাপুরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, প্রবাস থেকে ফিরে বিচারের দাবিতে মায়ের আর্তনাদ
স্টাফ রিপোর্টার, আমার মেয়ে পলি প্রতিপক্ষদের প্ররোচনা, অপমান, যন্ত্রণা ও হামলা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। বাড়িতে আসার পর মেয়ের ওপর প্রতিপক্ষের বিভিন্ন টর্চারের লোমহর্ষক বর্ণনা জানতে পেরেছি। প্রতিপক্ষরা শত্রুতামূলক বিভিন্ন কথা বলে আমার মেয়েকে মরে যেতে বাধ্য করেছে। তারা আমার মেয়েকে কথা দিয়ে মেরে ফেলেছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও বিচারহীনতার কথা বলছিলেন অনবরত মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করা কলেজ ছাত্রী ইসরাত জাহান পলির (১৬) মা রিনা আক্তার বিউটি। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও বিমান টিকিট জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরতে পারেননি এই প্রবাসী মা। পরবর্তীতে গত ২৫ মে তিনি প্রবাস থেকে বাড়িতে পৌঁছান।
অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, “কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর আজ ১২ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিচার পাইনি। উল্টো প্রতিপক্ষরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এর আগে মুমূর্ষু অবস্থায় পলিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালের মর্গে নিহতের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয হয়েছে।
নিহত পলি রাজাপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের মীরেরহাট (পুটিয়াখালি) এলাকার ফকির বাড়ির বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। মা প্রবাসে থাকার কারণে পলি তার মামা বাচ্চু হাওলাদারের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওইদিন পলি তার মামাতো ভাইকে নিয়ে উঠানে নামলে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে নানা আপত্তিকর ও আজেবাজে মন্তব্য করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা পলি এবং তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
মারধরের একপর্যায়ে পলি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ সুলতান ফকিরের স্ত্রী লাইজু বেগম, তাদের সহযোগী স্বজন ইমরান ফকিরের স্ত্রী সাথি বেগম (২৫), রুবেল ফকিরের স্ত্রী সাকিবা আক্তার (২২), রফিক ফকিরের স্ত্রী পারুল বেগম (৪৫), সুন্দর আলী ফকিরের ছেলে মো: মাসুম ফকির (৪৫), মাসুমের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৩৮), ছেলে মো: হৃদয় (২২), মেয়ে তানিয়া আক্তার (২০), ময়ূর ফকিরের স্ত্রী রোজি বেগম (২০), আজিজ ফকিরের ছেলে ইমান আলী ফকির (৬০) এবং সুলতান ফকিরের মেয়ে রিনা বেগম (২৫) তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এ সময় তারা পলির গলার চেইন ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। হুমকি ও আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষরা প্রতিনিয়ত পলিকে দেখে উস্কানিমূলক আচরণ, গালিগালাজ ও নানাভাবে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করে আসছিল। এমনকি লাইজুর ছেলে বিদেশ থেকে ফোন করে পলিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা খরচ করার অহংকার দেখায়।
মা বিদেশে থাকা এবং মামার বাড়িতে আশ্রিত থাকার কারণে প্রতিপক্ষের এই অনবরত মানসিক নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ১৯ মে রাতে আনুমানিক ১০টার দিকে পলি ইঁদুর মারার বিষ পান করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই শিক্ষার্থী।
এই নির্মম ঘটনায় পলির মামার পরিবার ও তার মা, প্রতিপক্ষ লাইজু ও তার পরিবারের জড়িত সকল সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন....