
প্রবাসীর স্ত্রী সহ পরিবারের ৭ সদস্যকে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে প্রবাসীর স্ত্রী সহ পরিবারের ৭ জনকে হত্যার চেষ্টায় কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
গত শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ৭ নং শেখ মাটিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হল প্রবাসীর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার সুরাইয়ার বোন সাথী আক্তার, সারা আক্তার, আইরিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ,মা মিনারা বেগম এবং ভগ্নিপতি এনায়েত খান।
এদের মধ্যে সুরাইয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং অন্যান্যরা নাজিরপুরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
আহত সুরাইয়া জানান, সুরাইয়ার সেজ বোন সারা আক্তারের ৯ বছরের শিশু পরশ মনির সাথে প্রতিবেশী মামুনের মেয়ে মোহনার দুষ্টামির একপর্যায়ে দ্বন্দ্ব হয়। আর এটাকে কেন্দ্র করে মামুনের স্ত্রী সোনিয়া সহ কয়েকজন শিশু পরশ মনিকে বেদম মারধর করে। এতে প্রতিবাদ করা হলে পরশ মনির মা সারা বেগম কে হত্যার চেষ্টায় কুপিয়ে পিটিয়ে জখম করেন। সারার ডাক চিৎকারে বাঁচাতে আসলে বোন সুমাইয়া, সাথী আক্তার, আইরিন, (প্রবাসীর স্ত্রী) সুরাইয়া, মা মিনারা বেগম এবং ভগ্নিপতি এনায়েত খানকে কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন সোনিয়া ও তার স্বামী মামুন মোল্লা, তাদের সহযোগি মন্টু মল্লিক, হানিফ মল্লিক, মনির মল্লিক, মনির মোল্লা, সরোয়ার হোসেন মোল্লা, সহ ২০-২৫ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।
এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
এমনকি ভগ্নিপতি এনায়েত খানের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালের মধ্যে পেলে দেয়।
স্থানীয় পরিবারের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ আহতদের ভর্তি করেন। সেখানে সুরাইয়ার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেলের রেফার করা হয়।
সুরাইয়ার মাথার চারা ভেঙ্গে গেছে। তবে অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আহদের সজন শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, আমার ৬ মেয়ে, কোন ছেলে নাই, যে সুযোগে প্রায় সময় কিছু দুষ্কৃতী লোক আমার ও আমার পরিবারের উপর বিভিন্ন জুলুম অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। হামলাকারী মামুন একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে।
এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানা মামলার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনদের সূত্রে জানা যায়।