• ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদের দোসর বাউফলের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান কামাল আত্মগোপনে থেকেও বহাল তবিয়তে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪, ১৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের দোসর বাউফলের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান কামাল আত্মগোপনে থেকেও বহাল তবিয়তে!

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

একুশের চোখ: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালালেও আত্মগোপনে থেকে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ফ্যাসিবাদের দোসর পটুয়াখালী জেলার বাউফলের ১৪ নং নওমালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল। ইউনিয়নবাসী কর্তৃক দুদকসহ সরকারের একাধিক সংস্থায় দেওয়া অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউপির চেয়ারম্যান কামাল বিশ্বাস রাজধানীর ঢাকা, পটুয়াখালী এবং বাউফলের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত হামলা চালান ও সভা-সমাবেশে আন্দোলন বিরোধী বক্তব্য দেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ০৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলে কামাল বিশ্বাস আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির জোরে, তার পরিবারের কালো টাকার বিনিময়ে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন এ ফ্যাসিস্টদের দোসর। আরো জানা যায়, আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাউফলের ইউএনও বশির গাজির কাছে টেলিফোনে মাসিক হাজিরা দেন কামাল বিশ্বাস। তাতেই খুশি ইউএনও বশির গাজি। এ ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় ‘বাউফলের ইউএনও বশির গাজি দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে মরিয়া’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।তার ভাই সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং আরেক ভাই নারী ঘটিত কারণে এবং সাবেক চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপির মধ্যস্থতায় সাধারণ ক্ষমা পেয়ে অবসরে যাওয়া বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার খ.ম. মশিউর রহমান লাভলু প্রশাসনের বিভিন্ন দরবারে তদবির করে আত্মগোপনে থাকা কামাল বিশ্বাসকে বহাল তবিয়তে রেখেছেন।ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে- বিএনপি, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মিদের মিথ্যা মামলা এবং তার সন্ত্রাসি লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে নির্মম নির্যাতন করে এলাকাছাড়া করেছে এই কামাল। এদিকে, আত্মগোপনে থেকে চেয়ারম্যান পদে বহাল তবিয়তে থাকায় ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।সরেজমিনে জানা যায়, কামাল বিশ্বাস ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং তার আপন বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকা বার কাউন্সিল সচিব হওয়ার পর সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার করেন অ্যাড. কামাল বিশ্বাস। দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় লোকজনকে মামলার আসামি করা এবং জামিনে মুক্ত করার ঠিকাদারী নেন তিনি।এছাড়া আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি পশ্চিম নওমালা নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি এবং আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। লুটেপুটে খান ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৭২ শতাংশ জমির বেশকিছু অংশ তাঁর পরিবার জবর দখল করে রাখেন বলে একাধিক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, কামাল বিশ্বাস যেন টাকা ছাপানোর মেশিন পেয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি।তার বিরুদ্ধে ১% এর টাকা দিয়ে কোন ধরণের উন্নয়নমূলক কাজ না করে এবং নির্দিষ্ট একাউন্টে চেক জমা না করে প্রতিবার নিজের ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেন। যা ১% এর নির্দিষ্ট একাউন্টের স্টেটমেন্ট যাছাই করলেই সত্য বেড়িয়ে আসবে।এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে অতি দরিদ্র শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শ্রমের বিনিময়ে ৪০ দিনের কর্মসূচির টাকা তাদের নিজ নিজ মোবাইল ফোনে পরিশোধ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান কামাল কোন ধরণের কাজ না করিয়ে সমস্ত টাকা নিজেদের পরিবারের এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনের মোবাইল ফোনের নম্বর দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। যা উপজেলা পিআইও অফিস থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সঠিক তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।আরো জানা গেছে, বিগত দিন থেকে এখন পর্যন্ত ট্যাক্স আদায়ের রশিদ এর অফিস কপি সংরক্ষণ না করে এবং রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ না করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেন।এছাড়াও তিনি ভিজিডি এবং ভিজিএফ’র চাল গোডাউন থেকে আনার সময়ে বেশকিছু বিক্রয় করে দেন। যার ফলে অনেক সুবিধাভোগী কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য চাল পায় না। এরকম অনিয়ম করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বিশ্বাস। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে চেয়ারম্যানের বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বিশ্বাস সাবেক জেলা ও দায়রা জজ তাকে দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখে এবং তার লালিত-পালিত গুন্ডা বাহিনী দিয়ে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্যাতন করেন। তার ভয়ে এবং অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান কামালকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....