জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাবুগঞ্জে দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, হাত-পা ভেঙে উল্লাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৮:২৬ অপরাহ্ণ
জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাবুগঞ্জে দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, হাত-পা ভেঙে উল্লাস
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ইসলামপুর গ্রামের মৃত ফজলে করিমের ছেলে ইদ্রিস বেপারী ও তার স্ত্রী মিলি বেগম। বর্তমানে তারা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে জনৈক ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ইদ্রিস বেপারী। ক্রয়ের পর থেকেই বিক্রেতার ভাতিজা পান্না ও বান্না গংরা ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা ইদ্রিস বেপারীর নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে ইদ্রিস বেপারী তার জমিতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পান্না, তার ভাই বান্না ও মাহবুবের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ইদ্রিস বেপারীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে দুই হাত ও পা ভেঙে দেয়। এসময় তার স্ত্রী মিলি বেগম স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা দম্পতিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ইদ্রিস বেপারীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতসহ হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে অর্থপেডিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।
এদিকে এই নৃশংস হামলার পর থেকেই প্রভাবশালী হামলাকারীদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আহতের স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, দিনের আলোতে এমন বর্বর হামলা চালিয়েও সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতা পান্না ও বান্নাসহ সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।