
ভান্ডারিয়ায় গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাহফুজা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের ‘জয় বাংলা’ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই নারী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেতালিয়া গ্রামের ফোরকান মৃধার সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল আলীর ছেলে সরোয়ার ও তার পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ফোরকানের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা তাদের পৈত্রিক জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি তার সাত বছরের শিশু কন্যাকেও গুম করার ভয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ফোরকান মৃধার স্ত্রী মাহফুজা আক্তারকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষ সরোয়ার, জহিরুল, জাহিদুল, রওশোনা, পারভীন ও দেলোয়ারসহ একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা মাহফুজাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাহফুজার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাহফুজাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফোরকান মৃধা বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে আমার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এখন ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।