• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে পুত্রবধূর হতে শশুরকে হত্যার চেষ্টা: ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ছিনতাই, ভুক্তভোগী আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৬:১৮ অপরাহ্ণ
বরিশালে পুত্রবধূর হতে শশুরকে হত্যার চেষ্টা: ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ছিনতাই, ভুক্তভোগী আশঙ্কাজনক

বরিশালে পুত্রবধূর হাতে শশুরকে হত্যার চেষ্টা: ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ছিনতাই, ভুক্তভোগী আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল নগরীর চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুত্রবধূ ও তার ভাড়াটিয়া সহযোগীদের হাতে সোহেল ঘরামি (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নৃসংশভাবে আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে বরিশাল লঞ্চঘাট সংলগ্ন খেয়াঘাটের মুখে এই ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহেল ঘরামি এবং তার ছেলে ও পুত্রবধূ আজ ভোরে ঢাকা থেকে ‘মানামি’ লঞ্চযোগে বরিশাল পৌঁছান। লঞ্চ থেকে নামার পর চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সোহেলের পুত্রবধূ (নয়নের স্ত্রী) এবং তার বেয়াই মন্টুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয়।হামলাকারীরা সোহেল ঘরামিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার কাছে থাকা নগদ ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সোহেলের খালাতো ভাই শাহিনও হামলার শিকার হন।আহত সোহেল ঘরামি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কোষাবর গ্রামের খলিল ঘরামির ছেলে। বর্তমানে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর (রেফার) করা হতে পারে।

আহতের স্বজন শাহিন গণমাধ্যমকে বলেন, “লঞ্চ থেকে নামার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা পরিকল্পিতভাবে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে এবং আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা এখন সোহেলের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।” পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রোগীর জীবন বাঁচানোই তাদের প্রথম লক্ষ্য। তবে এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সোহেল কিছুটা সুস্থ হলে বা অবস্থার পরিবর্তন হলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি, তবে স্থানীয় থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে

সংবাদটি শেয়ার করুন....