• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেবাচিমে তুঘলকি কাণ্ড: পর্ন ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই রফিকুল আবারও হাসপাতালে, আতঙ্কে রোগী ও সহকর্মীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শেবাচিমে তুঘলকি কাণ্ড: পর্ন ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই রফিকুল আবারও হাসপাতালে, আতঙ্কে রোগী ও সহকর্মীরা!

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"border":1,"square_fit":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

শেবাচিমে তুঘলকি কাণ্ড: পর্ন ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই রফিকুল আবারও হাসপাতালে, আতঙ্কে রোগী ও সহকর্মীরা!
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম)। এবার এক ‘বিতর্কিত’ ব্রাদারকে (নার্স) কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ।
রোগীর সাথে আপত্তিকর ও পর্ন ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম আবারও কর্মস্থলে যোগদান করায় তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি ও ক্ষোভ।
কয়েক বছর আগে রফিকুল ইসলামের একটি ২০ মিনিট ব্যাপী অত্যন্ত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে তাকে একজন রোগীর সাথে অনৈতিক অবস্থায় দেখা যায়, যা চিকিৎসা পেশার মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। সেই সময় তদন্তে তার একাধিক পরকীয়া এবং নিজের স্ত্রী (যিনি নিজেও একজন নার্স) এর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসে। এমনকি তার ভিডিও ভাইরাল পর্নো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেবাচিম হাসপাতালের আওয়ামী লীগ ব্যানারের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ‘(স্বানাপ)’ তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত ছয় বছরে বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত এবং শাস্তিমূলক বদলি হলেও সবকিছুকে ‘মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে’ ম্যানেজ করে রফিকুল আবারও সেই একই বিভাগে যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের অর্থপেডিক পুরুষ বিভাগে কর্মরত।
তার এই প্রত্যাবর্তনে হাসপাতালের সাধারণ নার্স ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্টাফ জানান:”যার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের এত বড় অভিযোগ রয়েছে, তার সাথে একই শিফটে ডিউটি করতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। এটি হাসপাতালের ভাবমূর্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।”হাসপাতালে ফেরার পর রফিকুল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এখন তার নিত্যদিনের কাজ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তার এই ‘ওপেন সিক্রেট’ বাণিজ্য হাসপাতালের শৃঙ্খলা ভেঙে চুরমার করছে।বিগত সময়ে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছিলেন প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রমান থাকার পরেও কীভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পুনর্বহাল হন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীরা এখন হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায়। রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গরিমা রক্ষায় এই ‘ভাইরাল ব্রাদার’ রফিকুলের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের সাথে জানতে চাওয়া হলে তিনি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
বাংলাদেশ নার্স এসোসিয়েশন (বিএনএ), বরিশালের সহ-সভাপতি শাহে আলম জানান,”ব্রাদার রফিকুল ইসলামের কথিত আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমি কোনো ব্যক্তিগত বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না।”
হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এইচ এম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি তার আগে জানা ছিল না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ধরনের নৈতিক স্খলন বা আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....