• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে দুই প্রবাসীর জমি নিয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও এক পক্ষের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১৩:৪৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে দুই প্রবাসীর জমি নিয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও এক পক্ষের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

বরিশালে দুই প্রবাসীর জমি নিয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও এক পক্ষের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল নগরীর বিমানবন্দর থানাধীন মাধবপাশা এলাকায় দুই প্রবাসী পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির নামে এক পুলিশ সদস্যের ‘প্রতারণা’ এবং এক প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে দলিলে উল্লিখিত শর্ত ভঙ্গ করে জমি ‘দখল’ করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকাটি এখন উত্তপ্ত। বিষয়টি স্থানীয় থানা প্রশাসন ও ডিআইজি কার্যালয় পর্যন্ত গড়ালেও কোনো সমাধান মেলেনি।

 প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রবাসী আজিজুল হক ও প্রবাসী নূর নবী স্থানীয় শাহীন সরদারের কাছ থেকে ১০ শতাংশ করে মোট ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমির দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, উভয় ক্রেতা দুটি পৃথক দাগ (প্লট) থেকে সমহারে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি ভোগ করবেন। অর্থাৎ, একটি দাগের ভালো জমি এবং অন্য দাগের পুকুর সংবলিত জমি—উভয় পক্ষই দুই দাগ থেকে অর্ধেক করে ভাগ পাবেন।

অভিযোগ উঠেছে, নূর নবীর পরিবার দলিলের শর্ত তোয়াক্কা না করে এক দাগের সম্পূর্ণ ১০ শতাংশ ভালো জমি এককভাবে দখল করে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের পরিবার জানায়, নূর নবীর পক্ষ রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে ওই জমিতে ঘর তুলে ফেলেছেন, যাতে আজিজুল হক তার পাওনা ৫ শতাংশ জমি বুঝে না পান। ফলে আজিজুল হকের পরিবারের ভাগে কেবল অন্য দাগের পুকুর সংবলিত নিচু অংশটি পড়ে রয়েছে।

আজিজুল হকের ভাগ্নি নূপুর অভিযোগ করেন,স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেত্রীর দাপট দেখিয়ে নূর নবীর পরিবার আইন-কানুন তোয়াক্কা করছে না। উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। দলিলে পরিষ্কার বলা আছে দুই দাগ থেকেই ৫ শতাংশ করে পাবো, কিন্তু তারা গায়ের জোরে পুরো ১০ শতাংশ দখল করে রেখেছে।”

জমির বিক্রেতা শাহীন সরদার, যিনি একজন পুলিশ সদস্য, তিনি নূর নবীর পরিবারের ওপর দখলের দায় চাপিয়েছেন। তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই সম্পত্তি বিক্রি করেছেন এবং নূর নবীর পরিবারই বণ্টননামা অমান্য করছে। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।তবে এই ঘটনায় মোড় ঘুরেছে যখন শাহীন সরদারের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ প্রতারণার’ অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। 

শাহীন সরদার পুলিশ সদস্য হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে বিক্রির সময় সম্মুখভাগের ভালো জমি দেখিয়ে দলিলে পেছনের বা কম গুরুত্বপূর্ণ দাগের জমি লিখে দিয়েছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, শাহীন সরদার জেনেশুনেই ‘জমি অদল-বদলের’ মাধ্যমে তাদের সাথে জালিয়াতি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক করলেও নূর নবীর পরিবার কোনো সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হয়নি। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে।

প্রতারণার শিকার ক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে দালিলিক প্রমাণসহ খুব শীঘ্রই আদালতের দ্বারস্থ হবেন। বিক্রেতা শাহীন সরদার এবং দখলদার নূর নবীর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।বর্তমানে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....