• ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: মিষ্টি ব্যবসায়ীকে ঘিরে গুটিয়ায় তোলপাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ২২:১২ অপরাহ্ণ
বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: মিষ্টি ব্যবসায়ীকে ঘিরে গুটিয়ায় তোলপাড়!

বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: মিষ্টি ব্যবসায়ীকে ঘিরে গুটিয়ায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুটিয়া বন্দর এলাকায় এক নারীকে (ছদ্মনাম সারা) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত টিটুল হাওলাদার ওই এলাকার ‘মাহিয়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী এবং প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘ তিন বছরের এই গোপন সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে একটি ল্যাবে চাকরির সুবাদে ব্যবসায়ী টিটুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টিটুল তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। । ইতিপূর্বে এই নারীর কাছ থেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসার নাম করে নগদ ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন টিটুল।

২০২৫ সালের মধ্যে বিয়ের কথা থাকলেও সময় পার হয়ে যাওয়ার পর টিটুল ওই নারীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিয়ের চাপ দিলে শুরু হয় চরম বিরোধ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি সকাল আনুমানিক আটটার দিকে জরুরী কথা বলার বিষয় প্রসঙ্গ নিয়ে বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে শীঘ্রই বিয়ে করবে বলে এই নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।সম্প্রতি টিটুল ও ওই নারীর ব্যক্তিগত কথোপকথনের রেকর্ড অভিযুক্তের স্ত্রীর হাতে পৌঁছালে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হয়। 

টিটুলের স্ত্রী মারিয়া এই সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমার স্বামীকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে শোনেনি।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত টিটুল শারীরিক সম্পর্কের কথা আংশিক স্বীকার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “একবার মেলামেশা করলেই কি বিয়ে করতে হবে?” তার এমন মন্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উজিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....