• ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফেসবুক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-১২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৩:২৪ অপরাহ্ণ
নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফেসবুক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-১২
নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফেসবুক পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত-১২

বরিশাল বিসিসির ৫ নং ওয়ার্ডের মুহাম্মাদপুর এলাকায় দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দলীয় ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, সহিদ ও মনির একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং দীর্ঘদিন একসাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

৫ আগস্টের পূর্বে তারা একই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনির হঠাৎ করে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং নিজেকে বিএনপির ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত করতে শুরু করেন।অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ব্যানারে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন মনির।এমন সময় সহিদ তার সঙ্গে থাকা পুরোনো রাজনৈতিক দিনের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে লেখেন—

“এরা এখন দেশের বিএনপি, হায় দুনিয়া।”এই পোস্ট মনির চেয়ারম্যানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সহিদকে এ ধরনের পোস্ট বন্ধ করতে বলেন।

তবে সহিদ তা উপেক্ষা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।সংঘর্ষে সহিদ গ্রুপের ৪ জন ও মনির গ্রুপের ৬ জন আহত হন।পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের মধ্যে ২ জনকে শেরেবাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার দায় এড়াতে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।সহিদ গ্রুপের দাবি, মনির গ্রুপ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যার প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে মনির গ্রুপের অভিযোগ, দোকানে বাকিতে পণ্য নেওয়ার টাকা চাইতে গেলে সহিদ গ্রুপ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সহিদ দাবি করেন, “মনির চেয়ারম্যান একসময় আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত।”

অন্যদিকে মনির বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে আমি নির্যাতিত হয়েছি।ব্যবসার স্বার্থে তখন কিছু প্রোগ্রামে যেতাম।”তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও একাধিক সূত্র বলছে, মনির অত্যন্ত কৌশলে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে পরিবারসহ বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন।এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এমন বিতর্কিত রাজনৈতিক অতীত থাকা সত্ত্বেও মনির কীভাবে বিএনপির আশ্রয় পেলেন?

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....