নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইনুদ্দিন খলিফাকে (৮০) নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রায়াপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা দিন রয়েছে।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে রায়াপুর ফারুকিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন প্রবীণ এই ব্যক্তিত্ব। মসজিদের সন্নিকটে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত পেছন থেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘাতকরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে মাথার পেছনের অংশ গুরুতর জখম হয়ে হাড় বেরিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বৃদ্ধ বয়সে মাথায় গভীর আঘাত পাওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের (রেফার) প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতের পুত্র মিলটন এই ঘটনাকে একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন:প্রাথমিকভাবে আমরা বিভ্রান্তিতে থাকলেও বাবার জবানবন্দি এবং জখমের ধরন বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এটি কোনো সাধারণ হামলা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত মিশন ছিল। একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের পরিবারকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছিল। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর আইনুদ্দিন খলিফা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, সারা জীবন সততার সঙ্গে ব্যাংকে চাকরি করেছি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করেছি। এই শেষ বয়সে কেন আমাকে এভাবে হত্যার চেষ্টা করা হলো জানি না। আমি এই অমানুষিক হামলার বিচার চাই।
এ ঘটনায় নলছিটি থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়া মাত্রই নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, একজন প্রবীণ নাগরিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধির ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলায় রায়াপুর গ্রামসহ পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, আইনুদ্দিন খলিফা দীর্ঘ ৫৫ বছর পূর্বে অত্যন্ত তরুণ বয়সে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষ করে অবসরে যান। এলাকায় তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।