
শেবাচিমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শীঘ্রই চালু হচ্ছে নতুন এম আর আই ও এনজিওগ্রাম সেবা
খান আব্বাস: দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আধুনিক চিকিৎসা সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অচল থাকা এমআরআই এবং ৪ বছর ধরে বন্ধ থাকা ক্যাথল্যাব মেশিনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক মেশিন স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতালের বর্তমান প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন কেবল মেশিন বুঝে পাওয়ার অপেক্ষা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে সিএমএসডি’র মাধ্যমে শেবাচিমে হিটাচি কোম্পানির একটি এমআরআই মেশিন সরবরাহ করা হয়েছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সচল থাকার পর এটি সাময়িকভাবে বিকল হয়। পরবর্তীতে মেরামত করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কোনোমতে সেবা দেওয়া হলেও এরপর থেকে এটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এক দশক এমআরআই সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চড়া মূল্যে পরীক্ষা করতে হয়েছে। সরকারি মেরামত প্রতিষ্ঠান ‘নিমিউ’ ২০২০ সালে অডিট শেষে মেশিনটিকে স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন মেশিন কেনার সুপারিশ করে।
একইভাবে হৃদরোগীদের জন্য ২০১৪ সালে ফিলিপস কোম্পানির একটি ক্যাথল্যাব মেশিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ২০২২ সাল পর্যন্ত এটি মোটামুটি সেবা দিলেও এর লাইফ টাইম শেষ হয়ে যাওয়ায় এটিও অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সরকারি এনজিওগ্রাম সেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীদের ব্যয়বহুল খরচে ঢাকা বা বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হয়।
বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মনীব দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সংকট নিরসনে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সাথে লবিং শুরু করেন। তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দুটি নতুন মেশিন বরাদ্দ দেয়। তিনি হাসপাতালের জন্য ব্যাপক অবদান রেখেছে।
মাত্র ১০ মাসেই অচল ৯৫টি সরঞ্জাম এখন সচল, সাথে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। পরিচালকের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
আইসিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমান পরিচালক স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও ব্যক্তিগত লবিংয়ের কারণে দ্রুততম সময়ে এই মেশিনগুলো বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আসার পর থেকেই হাসপাতালের উন্নয়নে বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডাঃ মোনায়েম সাদ জানান, নতুন এমআরআই এবং ক্যাথল্যাব মেশিন আমদানির প্রক্রিয়া বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শীঘ্রই এগুলো হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপরই নিয়মিতভাবে শুরু হবে এমআরআই ও এনজিওগ্রাম পরীক্ষা।
এ বিষয়ে শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মনীব বলেন, আমরা রোগীদের কষ্ট লাঘবে পুরাতন অকেজো মেশিন সংস্কারের পরিবর্তে নতুন ও অত্যাধুনিক মেশিন আনার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই এই নতুন মেশিনগুলো স্থাপিত হবে, যার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক সেবা পাবেন।