নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে এক প্রবাসীর ‘টাকার গরম’ ও ক্ষমতার দাপটে একটি অসহায় দিনমজুর পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তারা নারীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ বাড়ির সামনেই স্বামী, স্ত্রী ও বোনসহ একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে রহিম নামে এক প্রবাসী ও তার সহযোগীরা। হামলায় ভুক্তভোগীদের হাত ভেঙে দেওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।গত ২৩ মে (শনিবার) সকাল আনুমানিক আটটার দিকে এ বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন—নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মল্লিকের ছেলে দিনমজুর আবু মল্লিক (৫০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪২) এবং বোন রহিমা বেগম (৪৫)।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আবু মল্লিক ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বোন রহিমা বেগম বর্তমানে আমুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আবু মল্লিক জানান, প্রতিবেশী মৃত আহাম্মদ মল্লিকের ছেলে প্রবাসী রহিম ও তার পরিবারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত প্রায় তিন মাস পূর্বে রহিম বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর থেকেই প্রবাসী রহিম ও তার পরিবারের সহযোগীরা আবু মল্লিকের পরিবারের ওপর নানামুখী জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে।
ঘটনার দিন (২৩ মে) সকালে দিনমজুর আবু মল্লিকের রোপণকৃত গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছিল রহিম, তার ভাই জাফরসহ তাদের পরিবারের লোকজন। অসহায় দিনমজুর পরিবারটি এই অন্যায় ও অবৈধভাবে গাছ কাটার তীব্র প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রহিম।
প্রতিবাদের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসী রহিম, তার ভাই জাফর এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন সহযোগী মিলে আবু মল্লিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় আবু মল্লিকের আর্তচিৎকার শুনে তার স্ত্রী নাজমা বেগম এবং বোন রহিমা বেগম তাকে বাঁচাতে ঘর থেকে ছুটে আসলে, হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। ঘাতক চক্রটি নারীদেরও রেহাই দেয়নি; এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত জখম করে এবং পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রহিম প্রবাসে থাকার সুবাদে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। আর এই টাকার গরম ও পেশীশক্তির জোরে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ ও দিনমজুর পরিবারটির ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
আহত দিনমজুরের পরিবার জানিয়েছে, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করে সুস্থ হওয়া মাত্রই তারা অভিযুক্ত প্রবাসী রহিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য ও কাঁঠালিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।