বরিশাল জাগুয়ায় মামলার সাক্ষী হওয়ায় ছোট বোনকে পিটিয়ে জখম: অভিযুক্ত ভাই ও মা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬, ২২:০৯ অপরাহ্ণ
বরিশাল জাগুয়ায় মামলার সাক্ষী হওয়ায় ছোট বোনকে পিটিয়ে জখম: অভিযুক্ত ভাই ও মা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা সংলগ্ন দক্ষিণ জাগুয়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ভাইয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তে সত্য সাক্ষ্য দেয়ায় শিরিন সুলতানা (৩০) নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই, মা ও চাচাতো বোনের বিরুদ্ধে।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত শিরিন সুলতানা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিরিন সুলতানা জানান, তার বড় ভাই খোকন হাওলাদার দীর্ঘ ২-৩ মাস ধরে শিরিনের বান্ধবী মোরশেদাকে কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। অতিষ্ঠ হয়ে মোরশেদা সম্প্রতি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে গেলে শিরিন সুলতানা তার ভাইয়ের অপকর্মের বিষয়ে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন খোকন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে ঘরে একা পেয়ে খোকন হাওলাদার ও তার চাচাতো বোন শারমিন পপি সহ অজ্ঞাত কয়েকজন শিরিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় শিরিনের আপন মা রওশন আরা বেগম বাধা না দিয়ে উল্টো ছেলের পক্ষ নিয়ে শিরিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত শিরিন সুলতানা বলেন,আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে দূরে থাকে। দুই সন্তান নিয়ে আমি পৈতৃক বাড়িতে আলাদা বসবাস করি। আমার ভাই আমাদের সবার জমি বিক্রি করে দিলেও আমি আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের অংশটি আঁকড়ে ধরে আছি। মূলত জমি দখল করতে এবং মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে খোকনের লালসার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মোরশেদা জানান, খোকন একজন দুশ্চরিত্রের লোক। তিনি বলেন, শিরিন সত্য কথা বলায় তাকে মারধর করা হয়েছে। আমাকে এবং আমার মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে খোকন। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে আহত শিরিন সুলতানা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে তিনি অভিযুক্ত ভাই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ আল মামুনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এ ধরনের কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি।