• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতার তাণ্ডব! সংখ্যালঘুদের ঢাল বানিয়ে ৩ তলা ভবন দখলের মিশন…

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৬, ১৩:২১ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতার তাণ্ডব! সংখ্যালঘুদের ঢাল বানিয়ে ৩ তলা ভবন দখলের মিশন…
উজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতার তাণ্ডব! সংখ্যালঘুদের ঢাল বানিয়ে ৩ তলা ভবন দখলের মিশন…
রিপোর্ট:অমিত অধিকারী : তিল তিল করে গড়ে তোলা ৩ তলা ভবনই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ালো এক মাদরাসা শিক্ষকের! চাঁদাবাজির মিশন সফল করতে এবার সংখ্যালঘুদের কয়েকজনকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ভবন দখলের এক ভয়ঙ্কর অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত মোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এক শিক্ষকের বসতবাড়িতে চালানো হয়েছে সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী বর্বরোচিত তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাট। চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রভাষক এবং শংকরপুর এসাকিয়া তালিমুল ইসলাম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুফতি মাসুদ হাসান ফিরোজের পরিবার এই নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন।
গত ২ জুন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় বরিশালের উজিরপুর থানার গুঠিয়া ইউনিয়নের গুঠিয়া বন্দর এলাকায় এই কাপুরুষোচিত তাণ্ডব চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মাওলানা মুফতি মাসুদ হাসান ফিরোজ অভিযোগ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদার এবং তার সহযোগী সাধারণ সম্পাদক লাভলু চাপরাশি তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে এই অন্যায় ও অবৈধ দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়।
এরই জেরে গত ২ জুন বিকেলে শাহীন হাওলাদারের সরাসরি নির্দেশে তার সহযোগী লাভলু চাপরাশি ও বশির উদ্দিন বাবুসহ অজ্ঞাতনামা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যালঘুদের ঢাল হিসেবে সামনে রেখে শিক্ষকের নিজস্ব ক্রয়কৃত জমির ওপর নির্মিত ৩ তলা ভবনটি জোরপূর্বক দখল করা।
ঘটনার সময় মাওলানা ফিরোজ বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে একদল উগ্র সন্ত্রাসী ভবনে প্রবেশ করে তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে নির্মমভাবে মারধর, লাথি ও কিল-ঘুষি মারে। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ পরিবারটিকে ভবন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। হামলায় শিক্ষকের স্ত্রী গুরুতর আহত হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাণ্ডবকারীরা পুরো ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের রঙের বালতি, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ৬টি সিলিং ফ্যান এবং ঘরের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ বসতবাড়িতে এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন,আমি একজন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে আসছি। প্রকাশ্য দিবালোকে আমার বাড়িতে যে তাণ্ডব, লুটপাট এবং আমার স্ত্রী-সন্তানদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে গুটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদটি শেয়ার করুন....